বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

স্থানীয় লোকজনের সূত্রে জানা গেছে, চাঁদা আদায়কারীদের মধ্যে আছেন উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য জানে আলম। অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এবার আমি এসব কাজে নেই। তবে শুনেছি, এলাকায় অনেক নৌকা ও ট্রলার তৈরি করা হয়েছে।’

স্থানীয় অন্তত চার জেলের সঙ্গে কথা হলে তাঁরা জানান, সন্ধ্যা, সুগন্ধা ও আড়িয়াল খাঁ—এই তিন নদীবেষ্টিত বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় নিষেধাজ্ঞার সময় প্রতিবছরই মৌসুমি জেলেরা অবৈধ জাল দিয়ে বিপুল পরিমাণ ইলিশ শিকার করেন। কিন্তু প্রকৃত জেলেরা কেউ নদীতে নামেন না।

সন্ধ্যা ও সুগন্ধা নদীর সংযোগস্থল দক্ষিণ রাকুদিয়ার কমলাপুর থেকে দোয়ারিকা সেতুর উত্তর অংশ ইলিশের অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত। নিষেধাজ্ঞার সময় এই তিন নদীর দেহেরগতি, রামপট্টি, দোয়ারিকা সেতু এলাকা, মানিকবাঠি, চরসাধুকাঠি, পুরান দোয়ারিকা, উত্তর বাহেরচর, রাহুতকাঠি, পুরাতন শিকারপুর, কেদারপুর ও মোল্লার হাটসংলগ্ন নদীতে মাছ শিকার করার জন্য কমপক্ষে ১০০টি ডিঙি প্রস্তুত করে ঝোপঝাড়–ডোবার পানিতে লুকিয়ে রাখা হয়েছে। আবার কেউ পুরোনো নৌকাগুলো মেরামত করছেন।

শনিবার সকালে আড়িয়াল খাঁ নদীর পারে মীরগঞ্জ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, কয়েকটি নৌকা মেরামত করে নদীতে ভাসানোর প্রস্তুতি চলছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে মৌসুমি তিন জেলে জানান, মূলত তাঁরা সারা বছর অন্য কাজ করেন। ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার সময় প্রতিবছরই বাড়তি আয়ের জন্য তাঁরা ইলিশ ধরেন। এ জন্য নৌকাপ্রতি প্রতিদিন ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা চাঁদা দিতে হয়। তবে এ সময় প্রচুর মাছ পাওয়া যায়। চাঁদার টাকা দিয়েও ভালো লাভ থাকে।

জেলেরা জানান, বাবুগঞ্জের পাশের উপজেলা উজিরপুরের সাতলা, হারতা এলাকায় ছোট ছোট নৌকার হাট বসে। সেখান থেকে তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকায় এসব নৌকা কিনে আনেন তাঁরা। একটি নৌকা দুই থেকে তিন মৌসুম ব্যবহার করতে পারেন। নিষেধাজ্ঞা শেষ হয়ে গেলে আবার নদী থেকে নৌকা তুলে বাড়িতে রেখে দেন।

গত বছরের ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা চলাকালে বাবুগঞ্জ ও হিজলা উপজেলার সীমান্তবর্তী মোল্লারহাট এলাকার আড়িয়াল খাঁ নদীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছিল। মৌসুমি জেলেরাই হামলা চালিয়েছিলেন বলে তখন অভিযোগ ওঠে।

বাবুগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সাইদুজ্জামান বলেন, এ বছর মা ইলিশ রক্ষায় প্রশাসনের সব সংস্থা সম্মিলিতভাবে দিনরাত নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে নদীতে কাজ করবে। এ লক্ষ্যে মনিটরিং টিম, কন্ট্রোল রুম করা হয়েছে। মৎস্যজীবী, ট্রলারমালিক ও জেলেদের সতর্ক করা হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন