বক্তারা বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের জমি দখলের ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, যিনি দেশের স্বাধীনতার জন্য নিজের জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন, স্বাধীন দেশে তাঁর নামে স্থাপিত পাঠাগার, দাতব্য চিকিৎসালয় ও বসতভিটা রাতের আঁধারে যারা দখলের পাঁয়তারা করছে, তাদের পরিণাম হবে ভয়াবহ। বরিশালবাসী কোনোভাবেই এই দখলদার কুচক্রী মহল ও তাদের দোসরদের ছেড়ে দেবে না।

২৭ নভেম্বর দিবাগত মধ্যরাতে বর্গাচাষি মজিবর গাজী ও মানিক গাজী শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সুধীর কুমার স্মৃতি দাতব্য চিকিৎসাকেন্দ্র ও পাঠাগারের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন এবং ঘরগুলো দখলে নেন, সাইনবোর্ড সরিয়ে ফেলেন। বিষয়টি থানায় অভিযোগ হিসেবে দেওয়ার পরও এখন পর্যন্ত বিষয়টি মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়নি।

সমাবেশে মনীষা চক্রবর্তী বলেন, স্বাস্থ্যকেন্দ্র প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি এই জমির সিংহভাগ দুস্থদের সহযোগিতা, কর্মসংস্থানের জন্য বরিশাল কৃষি গবেষণা কেন্দ্র, মৎস্য অধিদপ্তরের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে ও সহযোগিতায় প্রাকৃতিক কৃষি খামার করা হয়। এই উদ্যোগে গ্রামের মানুষ উপকৃত হলেও বর্গাচাষিরাসহ একটি কুচক্রী মহল বিভিন্ন সময় নানা রকম প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করার চেষ্টা করে। এই কুচক্রী মহল জমি আত্মসাতের জন্য দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পনা করে আসছিল। সর্বশেষ তারা একটি জাল নিলাম দলিল করে জমি আত্মসাতের অপচেষ্টা করতে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৭ নভেম্বর দিবাগত রাত আনুমানিক তিনটার দিকে বর্গাচাষি মজিবর গাজী ও মানিক গাজী শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সুধীর কুমার স্মৃতি দাতব্য চিকিৎসাকেন্দ্র ও পাঠাগারের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম, মূল্যবান ওষুধ, আসবাব সরিয়ে ফেলেন, পাঠাগার ও চিকিৎসাকেন্দ্রের ঘরগুলো দখলে নেন এবং শহীদ সুধীর কুমার চক্রবর্তীর নামে পাঠাগার ও চিকিৎসাকেন্দ্রের সাইনবোর্ড সরিয়ে ফেলেন। বিষয়টি থানায় অভিযোগ হিসেবে দেওয়ার পরও এখন পর্যন্ত বিষয়টি মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়নি।

সমাবেশে উপস্থিত বাসদ নেতারা বলেন, প্রশাসন যদি অবিলম্বে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা সুধীর কুমার চক্রবর্তীর নামে নির্মিত পাঠাগার, দাতব্য চিকিৎসাকেন্দ্র ও বসতভিটা দখলমুক্ত না করে এবং এই স্বাধীনতাবিরোধী দখলদার ও তাদের দোসরদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা না নেয়, তবে বরিশাল, বাকেরগঞ্জ থেকে হাজার হাজার মানুষ বাঁশের লাঠি নিয়ে গিয়ে ওই দখলদারদের উচ্ছেদ করে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধার সম্মান রক্ষা করবে।

বাসদ আহ্বায়ক ইমরান হাবিবের সভাপতিত্বে সমাবেশে সুধীর কুমার চক্রবর্তীর পরিবারের সদস্যরা ছাড়াও বক্তব্য দেন ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের বরিশাল জেলার সভাপতি অধ্যাপক নৃপেন্দ্রনাথ বাড়ৈ, বাংলাদেশ কৃষক ক্ষেতমজুর সমিতির বরিশাল জেলার সভাপতি জলিলুর রহমান, গণসংহতি আন্দোলন বরিশাল জেলা সমন্বয়ক দেওয়ান আবদুর রশীদ, বিশিষ্ট নাগরিক শরফুদ্দিন, নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন বরিশাল জেলা সভাপতি আবুল হাশেম, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ বরিশাল জেলার সাধারণ সম্পাদক সুরঞ্জিত দত্ত, বাংলাদেশ খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশন বরিশাল জেলার সাধারণ সম্পাদক এলবার্ট রিপন বল্লভ, মুদিঘর হ্যান্ডেলিং শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন পাইক, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের বরিশাল জেলার সহসভাপতি মাফিয়া বেগম, ডিস্ট্রিবিউটর শ্রমিক ইউনিয়নের সহসভাপতি হানিফ হাওলাদার, বরিশাল রিকশা-ভ্যান চালক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি দুলাল মল্লিক, ইজিবাইকচালক সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি আজিজ মোল্লা, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট বরিশাল জেলা আহ্বায়ক সাগর দাস, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন বরিশাল জেলার সহসভাপতি হাসিব আহমেদ প্রমুখ। পরে দাবির সপক্ষে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেন তাঁরা।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন