default-image

বরিশালে পুলিশ বেষ্টনীর ভেতরে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বিএনপি। আজ সোমবার সকালে নগরের সদর রোডে বিএনপির জেলা ও নগর কার্যালয়ে সামনে এই বিক্ষোভ সমাবেশ আয়োজন করা হয়। স্বাধীনতা দিবসে ‘মানুষ হত্যা’ ও ‘পুলিশি হামলার’ অভিযোগে বিএনপি ২৯ মার্চ ঢাকাসহ বিভাগীয় শহরে এবং ৩০ মার্চ জেলা শহরে বিক্ষোভ কর্মসূচি দেয়।

ওই কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরিশালে দলীয় কার্যালয়ের সামনে জড়ো হতে থাকে দলটির বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীরা। কিন্তু এই কর্মসূচি শুরুর আগেই সকাল থেকে বিপুলসংখ্যক পুলিশ বিএনপির দলীয় কার্যালয় ঘিরে রাখে। বেলা পৌনে ১১টার দিকে বিএনপি পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ হয়। বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও বরিশাল নগর সভাপতি মজিবর রহমান সরোয়ার এতে সভাপতিত্ব করেন। সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিল বের করার চেষ্টা করলে পুলিশ তাতে বাধা দেয়। এ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে নেতা-কর্মীদের ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। পরে নেতা-কর্মীরা দলীয় কার্যালয়ে ফিরে গিয়ে সরকারবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন।

মিছিলে বাধা দেওয়া প্রসঙ্গে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আসাদুজ্জামান বলেন, বিএনপির কর্মসূচিকে ঘিরে কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এ ছাড়া জনগণের স্বাভাবিক চলাচলে বিঘ্ন ঘটতে পারে বিধায় বিএনপিকে মিছিল করতে দেওয়া হয়নি।

বিজ্ঞাপন

সমাবেশে মজিবর রহমান সরোয়ার বলেন, ‘আমরা সবাই মিলে মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে ১৯৭১ সালে দেশের স্বাধীনতা এনেছিলাম। কিন্তু স্বাধীনতার সেই ৫০ বছর উদ্‌যাপন করা হয়েছে দলীয়ভাবে। এখানে কোনো মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের কোনো দল, ব্যক্তিকে ডাকা হয়নি। কৌশলে এই উদ্‌যাপনকেও সরকার দখল করার ঘৃণ্য চেষ্টা করেছে।’

মজিবর রহমান সরোয়ার আরও বলেন, ‘সব মানুষের প্রতিবাদ করার, কথা বলার অধিকার নিশ্চিত করার জন্যই আমরা স্বাধীনতা এনেছিলাম। এটা সাংবিধানিক অধিকার। কিন্তু আমরা কী দেখলাম, স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তির শুভ মুহূর্তে নির্বিচারে মানুষ হত্যার ঘৃণ্য দৃশ্য। সুবর্ণজয়ন্তীকে রক্তাক্ত করা হলো। সুবর্ণজয়ন্তী উৎসবের নামে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিয়েই সরকার ব্যস্ত ছিল।’

ভারতের প্রধানমন্ত্রী আমাদের কী দিয়ে গেলেন—এমন প্রশ্ন রেখে মজিবর রহমান সরোয়ার বলেন, ‘তিস্তার পানির চুক্তির বাস্তবায়ন, সীমান্তে হত্যা বন্ধ, রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানের ব্যাপারে কোনো আশার খবর আমরা পাইনি। আমরা কেবল দিয়েই যাচ্ছি কিন্তু আমরা কিছু কি পাব না—এটা তো হতে পারে না। আমাদের মুক্তিযুদ্ধে প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারতের ভূমিকা ছিল। সেটা আমরা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করি। তার মানে এই নয়, তাঁরা শুধু নেবে, কিন্তু কিছুই দেবে না।’

সমাবেশে বিএনপির অন্য নেতারা বলেন, এখন পর্যন্ত ১৭ জন মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। স্বাধীন দেশের স্বাধীনতা দিবসে মানুষ হত্যা ও পুলিশি হামলা কোনোভাবেই কাম্য নয়। স্বাধীনতা দিবসে এই ঘটনার মাধ্যমে স্বাধীনতাকে কলুষিত করা হয়েছে। বিএনপি চায়, এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার হোক। তা না হলে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি এই অন্যায় কঠোরভাবে প্রতিহত করবে।

বক্তব্য দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস আক্তার জাহান, কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান, বরিশাল নগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জিয়াউদ্দিন সিকদার, নগর বিএনপির সহসম্পাদক আনোয়ারুল হক, নগর যুবদলের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি কামরুল আহসান, দক্ষিণ জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক হাফিজ আহমেদ প্রমুখ।

একই দাবিতে সকালে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বরিশাল নগর ছাত্রদল। সকালে নগরীর কালিবাড়ী রোড এলাকায় সরকারি বরিশাল কলেজের সামনে থেকে মিছিলটি বের করা হয়।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন