default-image

দেখে বোঝার উপায় নেই এখন লকডাউন চলছে। করোনা সংক্রমণ ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে, পাশাপাশি বাড়ছে মৃত্যু। কিন্তু বরিশাল নগরের বাণিজ্যিক এলাকাগুলোয় এসবকে পাত্তা না দিয়ে গায়ে গা ঘেঁষে ভিড় করে চলছে বেচাকেনা। সবকিছুই স্বাভাবিকভাবে চলছে।

আজ রোববার সকালে নগরের চকবাজার, গির্জা মহল্লা, ফজলুল হক এভিনিউ, সদর রোড, বাজার রোড, পোর্ট রোড ঘুরে দেখা গেল—জীবনযাত্রা স্বাভাবিক। এসব এলাকায় ভিড় স্বাভাবিক সময়ের চেয়েও যেন কিছু বেশি। কারও মুখে মাস্ক আছে, কেউ মাস্ক পরলেও থুতনিতে নামিয়ে রেখেছেন। আবার কেউ মাস্ক পরেনইনি। শারীরিক দূরত্বেরও কোনো বালাই দেখা গেল না।

নগরের চন বাজারে চলছে চৈত্র্যের বিশেষ মূল্য হ্রাস। সেখানে ক্রেতারা যেন ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। কাশীপুর থেকে এক দম্পতি এসেছেন তিন ছেলেমেয়েকে নিয়ে মূল্য হ্রাসে কেনাকাটা করতে। এত ঝুঁকির মধ্যে বাচ্চাদের নিয়ে কেনাকাটা করতে আসার বিষয়ে ওই দম্পতি বলেন, ‘বছরে একটা সুযোগ পাই। সবাই আসে তাই আমরা আসছি। আর সামনে ঈদ, ঈদের সময় পোশাকআশাকের দাম থাকে বাড়তি। তাই আগেভাগে কিছু কম দামে প্রতিবছরই মূল্য হ্রাসের সময় আগাম ঈদের কেনাকাটা করে রাখি।’

স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে মানুষের এই উদাসীনতার কারণেই বরিশালে করোনার সংক্রমণ বাড়ছে বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

বিজ্ঞাপন

বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তর বলছে, গত বছরের মার্চ থেকে চলতি বছরের ১০ এপ্রিল পর্যন্ত বরিশালে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ১২ হাজার ৩৬৪ জন। এর মধ্যে সর্বোচ্চ সংক্রমণ বরিশালে ৫ হাজার ৬৩০ জন, পটুয়াখালীতে ১ হাজার ৯০৫ জন, পিরোজপুরে ১ হাজার ৩৬৬ জন, ভোলায় ১ হাজার ৩৩০ জন, বরগুনায় ১ হাজার ১২৬ জন ও ঝালকাঠিতে ১ হাজার ৭ জন। আজ বিভাগে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ১৫১ জন।

করোনার দ্বিতীয় ধাপে সংক্রমণের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, চলতি মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই এই বিভাগে করোনার সংক্রমণ ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করে। ১৩ থেকে ১৯ মার্চ—এই ৭ দিনে বিভাগের ৬ জেলায় আক্রান্ত হন মাত্র ৭৭ জন। কিন্তু ২০ থেকে ২৬ মার্চ পরের ৭ দিনে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২২৮, অর্থাৎ প্রায় ৩ গুণ। ১৬ মার্চ থেকে ৩ এপ্রিল—এই ১৯ দিনে বিভাগে আক্রান্ত হন ১ হাজার ৯৯১ জন। আর ৪ থেকে ১১ এপ্রিল—এই ১ সপ্তাহে করোনা শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ৩৮ জনের।

এদিকে স্বাস্থ্যবিধি সুরক্ষায় প্রতিদিনই জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিক ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চলমান থাকলেও সাধারণ মানুষের এই উদাসীনতা কমছে না।
বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডল প্রথম আলোকে বলেন, ‘সংক্রমণের যে গতি তা খুবই উদ্বেগজনক। এই মুহূর্তে স্বাস্থ্যবিধি মানার ব্যাপারে সাধারণ মানুষের সচেতন হওয়ার কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু আমরা যেভাবে মানুষের উদাসীনতা দেখছি, তাতে আমরা সবাই মিলে সংক্রমণ রোধে যে দিনরাত পরিশ্রম করছি তা বৃথা হয়ে যেতে পারে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন