default-image

বরিশাল বিভাগে গত এক সপ্তাহে করোনার সংক্রমণ বেড়েছে। এ নিয়ে চিন্তিত স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বাস্থ্যবিধি মানার ব্যাপারে উদাসীনতাই এর পেছনের মূল কারণ। সাধারণ মানুষের এই উদাসীনতা ঠেকানো না গেলে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যেতে পারে।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, ফেব্রুয়ারিতে এই বিভাগে আক্রান্তের হার ২ থেকে ৩ শতাংশে নেমে যায়। মার্চের প্রথম দুই সপ্তাহেও একই হারে স্থির ছিল। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে দুই থেকে তিনজন আক্রান্ত হতেন। কিন্তু মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে, অর্থাৎ ১৫ মার্চ থেকে এক লাফে এই সংখ্যা গড়ে ১২ জনে পৌঁছায়। পরের দিন ১৬ মার্চ তা কিছুটা কমে পৌঁছায় ৮ জনে। এর মধ্যে ১৪ মার্চ ঝালকাঠিতে একজন ও ১৬ মার্চ বরগুনায় একজন করে মারা যান। ২১ ও ২৪ মার্চ ঝালকাঠি ও বরিশালে একজন করে মারা যান।

স্বাস্থ্য বিভাগের উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই এই বিভাগে করোনার সংক্রমণ ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করে। ১৩ থেকে ১৯ মার্চ এই সাত দিনে বিভাগের ছয় জেলায় আক্রান্ত হয় মাত্র ৭৭ জন। কিন্তু ২০ থেকে ২৬ মার্চ পরের সাত দিনে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল প্রায় তিন গুণ, অর্থাৎ ২২৮ জন।

বিজ্ঞাপন

সংখ্যাগত দিক থেকে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণের হার বরিশাল জেলায়। এই জেলায় ১৩ থেকে ১৯ মার্চ সাত দিনে সংক্রমিত হয় ৪৬ জন। পরের সাত দিনে এই সংখ্যা দাঁড়ায় ১২৪ জনে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভোলা। এই জেলায় ১৩ থেকে ১৯ মার্চ সাত দিনে সংক্রমিত ছিল ৮ জন। পরের সাত দিনে সংক্রমিত হয় ৩৫ জন। এরপর রয়েছে পিরোজপুর জেলা। এই জেলায় ১৩ থেকে ১৯ মার্চ ১১ জন সংক্রমিত হলেও পরের সপ্তাহে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২০ জনে।

১৩ থেকে ১৯ মার্চ অবধি ঝালকাঠিতে সংক্রমিত হয়েছিল মাত্র চারজন। কিন্তু পরের সপ্তাহে তা একলাফে বেড়ে ২২ জনে পৌঁছায়। বরগুনা ও পটুয়াখালীতে সংক্রমণ পরিস্থিতি কিছুটা কম থাকলেও ২০ মার্চের পর তা কিছুটা বেড়েছে। বরগুনায় ১৩ থেকে ১৯ মার্চ সংক্রমিত ছিল ৭ জন, আর পটুয়াখালীতে ছিল মাত্র ১ জন। কিন্তু পরের সপ্তাহে তা বেড়ে বরগুনায় ৯ জন এবং পটুয়াখালীতে দাঁড়ায় ১৮ জনে।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব কমে যাওয়ার পর ‘নতুন স্বাভাবিক অবস্থায়’ বরিশালের মানুষের জীবনযাত্রা তিন মাস ধরে একেবারেই স্বাভাবিক। স্বাস্থ্যবিধি মেনে মাস্ক পরা বাদ দিয়ে আগের মতোই জনসমাগম চলছে। এ ক্ষেত্রে প্রশাসনেরও কোনো তদারকি ছিল না। কিন্তু গত কয়েক দিনে বরিশালসহ বিভাগে করোনার প্রকোপ কিছুটা বেড়ে যাওয়ায় ১৬ মার্চ থেকে জনগণকে সচেতন করতে আবার মাঠে নেমেছে জেলা প্রশাসন। এরপর থেকে প্রতিদিনই বরিশাল নগরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের নেতৃত্বে একাধিক ভ্রাম্যমাণ আদালতে অভিযান চলছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের একটি সূত্র জানায়, স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষার পাশাপাশি করোনার লক্ষণ দেখা দিলেও এখন অনেকেই আর পরীক্ষা করান না। এই অবস্থায় তাঁরা বাইরে যাচ্ছেন, স্বাভাবিকভাবে সবার সঙ্গে মিশছেন; এমনকি আইসোলেশনে থাকছেন না। এটা আরও ভয়াবহ প্রবণতা। এ বিষয়ে সবার সচেতন হওয়া প্রয়োজন। না হলে সংক্রমণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডল প্রথম আলোকে বলেন, এর পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে আগের মতোই চলাফেরা করা, মাস্ক না পরা ও করোনার লক্ষণ থাকলেও পরীক্ষা না করিয়ে ঘুরে বেড়ানো। মূল কথা, উদাসীনতা এর পেছনে দায়ী। এ ব্যাপারে জনসাধারণকে নানাভাবে সচেতন করার চেষ্টা চলছে, কিন্তু তা উপেক্ষিত হচ্ছে। কিন্তু এভাবে চলতে থাকলে সামনে বড় বিপদ হতে পারে।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন