default-image

প্রশাসনের নজরদারি ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের ধারাবাহিক অভিযানের পরও বরিশাল কেজিদরে তরমুজ বিক্রির প্রবণতা বন্ধ হয়নি। ব্যবসায়ীরা নতুন কৌশলে এখনো কেজি হিসেবেই তরমুজ বিক্রি করছেন। কৌশলের অংশ হিসেবে এখন পরিমাপ যন্ত্র আড়ালে রাখছেন। ক্রেতা এলে ঠিকই দামদর করেন কেজিদরে।

তবে জেলা প্রশাসন এই প্রবণতা বন্ধে অভিযান অব্যাহত রেখেছে। বুধবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত নগরের বিভিন্ন এলাকায় ফলের আড়ত ও দোকানে অভিযান চালিয়ে ছয় ব্যবসায়ীকে ৯ হাজার ৭০০ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

ক্রেতাদের অভিযোগ, যুগ যুগ ধরে বরিশাল অঞ্চলে রসাল ফলটি পিস হিসেবে বিক্রি হতো। কিন্তু এ বছরই প্রথম বরিশালের বাজারে খুচরা ব্যবসায়ীরা কেজি হিসেবে তরমুজ বিক্রির প্রথা চালু করেন। এতে ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজিদরে একটি ছোট আকারের তরমুজ ৪০০-৪৫০ এবং মাঝারি আকারের একটি তরমুজ কিনতে ৫৫০-৬০০ এবং বড় আকারের একটি তরমুজ কিনতে এক হাজারের বেশি টাকা গুনতে হয় ক্রেতাদের। এতে এবার সাধারণের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যায় মৌসুমি ফলটি। এতে ক্ষুব্ধ হন ক্রেতারা। জনগণের প্রতিক্রিয়া বুঝতে পেরে তিন দিন ধরে অভিযান নামে জেলা প্রশাসন।

বিজ্ঞাপন

বুধবার সকাল থেকে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম রাহাতুল ইসলাম, আরাফাত হোসেন ও নিশাত ফারাবীর নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত নগরের পোর্ট রোড, বাংলাবাজার ও বটতলা বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে ছয় তরমুজ ব্যবসায়ীকে অতিরিক্ত মূল্যে তরমুজ বিক্রির করার অভিযোগের সত্যতা পেয়ে ৯ হাজার ৭০০ টাকা জরিমানা করেন।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম রাহাতুল ইসলাম বলেন, আড়ত থেকে পিস হিসেবে কিনে খুচরা বাজারে ব্যবসায়ীরা কেজিমূল্যে তরমুজ বিক্রি করে ক্রেতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন। এতে লাভ বেশি হওয়া এবার নগরের আনাচে-কানাচে, এমনকি ফলের দোকানগুলোতে অন্য ফল বাদ দিয়ে এখন বেশির ভাগ খুচরা ববসায়ী তরমুজ বিক্রি করছেন। এই প্রবণতা বন্ধে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে তিন দিন ধরে নগরে তরমুজ বাজারের অতিরিক্ত মূল্য নিয়ন্ত্রণে অভিযান অব্যাহত আছে। জনস্বার্থে এই অভিযান চলবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন