স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রোববার বেলা তিনটার দিকে নগরের বিএম কলেজ সড়কে কাউন্সিলর জিয়াউর রহমান ওরফে বিপ্লবের কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এ সময় পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা ময়লার গাড়ি দিয়ে কাউন্সিলরের কার্যালয়–সংলগ্ন সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন। এতে ওই ব্যস্ততম সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

অন্যদিকে কাউন্সিলর কার্যালয় ঘেরাওয়ের প্রতিবাদে জিয়াউর তাঁর সমর্থক ও ২০ নম্বর ওয়ার্ডের কয়েক শ বাসিন্দাকে নিয়ে বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের সিঅ্যান্ডবি এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। সিটি করপোরেশনের আরও ৯ জন ওয়ার্ড কাউন্সিলর সমর্থকদের নিয়ে ওই বিক্ষোভে যোগ দেন। এতে মহাসড়কের ওই অংশে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। পরে প্রশাসনের অনুরোধে সন্ধ্যার দিকে কাউন্সিলর জিয়াউরের সমর্থকেরা মহাসড়ক থেকে চলে যান। তবে সিটি করপোরেশনের কর্মচারীরা কাউন্সিলর জিয়াউরের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ অব্যাহত রাখেন। পরে মামলা নেওয়ার আশ্বাসে রাত ১১টার দিকে তাঁরা অবরোধ তুলে নিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

বরিশাল সিটি করপোরেশনের সড়ক পরিদর্শক রাজীব হোসেন খান অভিযোগ করেন, ২০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. কামরুজ্জামান ভবন নির্মাণ করছেন। সিটি করপোরেশন থেকে নকশা (প্ল্যান) অনুমোদন করে ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে কি না, তা যাচাই করতে তিনি ওই বাড়িতে গিয়েছিলেন। এ সময় নিয়ম মেনে ভবন নির্মাণের জন্য অনুরোধ করেন রাজীব। ভবনমালিক বিষয়টি ভিন্নভাবে ২০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জিয়াউর রহমানের কাছে উপস্থাপন করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে কাউন্সিলর জিয়াউর রহমান তাঁকে ফোন করে ডেকে নেন। এরপর ২০ নম্বর ওয়ার্ডের হোসাইনিয়া মাদ্রাসার একটি কক্ষে আটকে রেখে কাউন্সিলর তাঁকে মারধর করেন এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে হুমকি দেন। এ ঘটনা জানতে পেরে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কাউন্সিলরের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন। পরে পুলিশের পক্ষ থেকে এ ঘটনায় মামলা নেওয়ার আশ্বাস দিলে করপোরেশনের কর্মচারীরা রাতে কাউন্সিলর কার্যালয়ের সামনে থেকে চলে যান।

কাউন্সিলর জিয়াউর রহমান এসব অভিযোগ অসত্য ও কাল্পনিক দাবি করে বলেন, ‘কলেজশিক্ষক ও তাঁর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. কামরুজ্জামান ভবন নির্মাণ করছেন। ওই বাসিন্দা অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী সব কাজ করছেন। এরপরও সড়ক পরিদর্শক রাজীব হোসেন খান সেখানে গিয়ে তাঁকে বিভিন্ন সময় হয়রানি করতেন। গত ২১ মার্চ সিটি করপোরেশনের কর্মচারী পরিচয় দিয়ে একদল যুবক কলেজশিক্ষকের বাড়িতে গিয়ে তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। বিষয়টি জানার পর রাজীব হোসেনকে ডেকে কলেজশিক্ষককে হয়রানি বন্ধের অনুরোধ করেছি। কিন্তু রাজীব হোসেন খানকে দিয়ে একটি মহল ঘটনাটি ভিন্নভাবে প্রচার শুরু করে।’

গত বছরের ১৮ আগস্ট বরিশাল সদর উপজেলা পরিষদের ভেতরে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও সদর আসনের সাংসদ জাহিদ ফারুকের ব্যানার-ফেস্টুন অপসারণ করা নিয়ে মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ–সমর্থিত আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এরপর সিটি করপোরেশনের ১০ জন কাউন্সিলর মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর বিপক্ষে অবস্থান নেয় এবং পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি জাহিদ ফারুকের সঙ্গে যোগ দেন। জিয়াউর তাঁদের একজন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন