বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
দলীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, মজিবর রহমান সরোয়ারের এই আধিপত্য ভাঙতে তাঁর বিরোধী একটি অংশ এবার একজোট হয়েছিল।

বরিশাল দক্ষিণ জেলায় মজিবর রহমান ওরফে নান্টুকে আহ্বায়ক ও আকতার হোসেন ওরফে মেবুলকে সদস্যসচিব করা হয়েছে। এখানে সভাপতি ছিলেন এবায়দুল হক চান এবং সাধারণ সম্পাদক ছিলেন আবুল কালাম ওরফে শাহীন।

বরিশাল উত্তরের দেওয়ান মোহাম্মদ শহীদুল্লাহকে আহ্বায়ক ও মিজানুর রহমান ওরফে মুকুলকে সদস্যসচিব করা হয়েছে। এখানে সভাপতি ছিলেন সাবেক সাংসদ মেজবাহউদ্দিন ফরহাদ ও আকন কুদ্দুসুর রহমান সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

বরিশাল নগর ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দুই মাস ধরে বরিশালে ব্যাপক আলোচনা চলছিল। মজিবর রহমান সরোয়ার প্রায় ৩০ বছর ধরে নগর বিএনপির সভাপতি পদে আছেন। সাংসদ, হুইপ ও সিটি মেয়রের দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি। দলের সাংগঠনিক কাঠামোতে তাঁর শক্ত প্রভাব রয়েছে।

বিএনপিতে কখনো এমন কমিটি করার সংস্কৃতি ছিল না। এটা খুবই দুঃখজনক এবং একটি খারাপ নজির তৈরি হলো।
মজিবর রহমান সরোয়ার, নগর বিএনপির বর্তমান সভাপতি

দলীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, মজিবর রহমান সরোয়ারের এই আধিপত্য ভাঙতে তাঁর বিরোধী একটি অংশ এবার একজোট হয়েছিল। তারা ঢাকায় কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে একাধিকবার ধরনা দিয়ে সরোয়ারবিহীন নতুন কমিটি প্রতিষ্ঠার তৎপরতা চালায়।

নতুন কমিটি ঘোষণার পর মজিবর রহমান সরোয়ার প্রথম আলোকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন দলের জন্য কাজ করেছি। কখনো নিজের স্বার্থে দল বদল করিনি। দুঃসময়েও মাঠে লড়াই করেছি। বরিশালে শক্তিশালী বিএনপি আমাদের সম্মিলিত পরিশ্রমের ফসল। আমাকে বাদ দেওয়ার জন্য না হয় তাঁরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলেন। কিন্তু এবায়দুল হক চান, সাবেক মেয়র আহসান হাবিব কামাল, সাবেক সাংসদ মেজবাহ উদ্দীন ফরহাদ তাঁদেরও রাখা হয়নি। বিএনপিতে কখনো এমন কমিটি করার সংস্কৃতি ছিল না। এটা খুবই দুঃখজনক এবং একটি খারাপ নজির তৈরি হলো।’

মজিবর রহমান অভিযোগ করে বলেন, এখন যাঁদের দিয়ে আহ্বায়ক কমিটি করা হয়েছে, সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই-সংগ্রামে তাঁরা মাঠে ছিলেন না। দলের তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে তাঁদের কোনো যোগাযোগ নেই।

যাঁরা দলের ত্যাগী নেতা-কর্মী, তাঁরা অনেকেই এত দিন সম্মানের সঙ্গে দল করতে পারেননি। এখন ঐক্যবদ্ধভাবে দলকে সংগঠিত ও শক্তিশালী করার জন্য সবাই মিলে কাজ করব।
মীর জাহিদুল কবির, সদস্যসচিব, নগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি

নগর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল হক তারিন বলেন, ১০ বছর ধরে সরকারের দমন–পীড়নে যাঁরা রাজপথে ছিলেন না, দলীয় কর্মসূচিতে ছিলেন না, তাঁরাই কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে ধরনা দিয়ে পদ-পদবি পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন। তাঁদের সঙ্গে নগরের তৃণমূলের নেতা-কর্মীর যোগসূত্র নেই। যাঁরা ঢাকা থেকে কমিটি ‘নাজিল’ করেছেন, মাঠে তাঁদের অবস্থান নেই। নতুন কমিটি হতে হলে অবশ্যই নগর বিএনপির নেতা-কর্মীদের মতামত নিয়ে কাউন্সিলের মধ্য দিয়ে হতে হবে বলে তিনি দাবি করেন।

নগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদ্য দায়িত্ব পাওয়া সদস্যসচিব মীর জাহিদুল কবির বলেন, ‘সারা দেশেই একটা সময়ের পর দলের সাবেক ছাত্রনেতারা নেতৃত্বে আসেন। কেবল বরিশালেই ব্যতিক্রম ছিল। আমি ছাত্রদলের নগর কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক। যাঁরা দলের ত্যাগী নেতা-কর্মী, তাঁরা অনেকেই এত দিন সম্মানের সঙ্গে দল করতে পারেননি। এখন ঐক্যবদ্ধভাবে দলকে সংগঠিত ও শক্তিশালী করার জন্য সবাই মিলে কাজ করব।’

এর আগে ২০১২ সালের নভেম্বরে সর্বশেষ বিএনপির মহানগর কমিটি এবং ২০১০ সালে উত্তর জেলা ও ২০১৪ সালে দক্ষিণ জেলা কমিটি গঠন করা হয়েছিল।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন