আজ বরিশাল নৌবন্দর ও নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে বরিশাল-কাঁঠালবাড়ি রুটের বাস কাউন্টারে ছিল যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। বিকেল চারটার পর থেকেই ঢাকামুখী যাত্রীদের ঢল নামে নৌবন্দরে। কাঙ্ক্ষিত টিকিট না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন অনেক যাত্রী। দুপুরে নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা গেছে, কর্মস্থলে ফিরতে স্রোতের মতো যাত্রীরা আসছেন।

বরিশাল নৌবন্দর সূত্রে জানা গেছে, ঈদের পরের দিন গত বুধবার ছুটি শেষ হলেও বৃহস্পতিবার থেকে লঞ্চে যাত্রীদের চাপ বাড়তে থাকে। ঘরে ফেরা অধিকাংশ যাত্রীর বেসরকারি প্রতিষ্ঠান খুলবে আগামীকাল শনিবার। তাই শুক্রবার যাত্রীদের ঢল নামে নৌবন্দরে। আজ সকালে অ্যাডভেঞ্চার-৬ নামের একটি ওয়াটার বাস যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। এরপর বেলা দুইটায় ওয়াটার বাস গ্রিনলাইন ও রাজারহাট-সি নামের অপর একটি লঞ্চ বরিশাল থেকে যাত্রী নিয়ে ঢাকায় যায়।

আজ সন্ধ্যায় বরিশাল নৌবন্দরে গিয়ে দেখা গেছে, বন্দরে নোঙর করা ১৩টি লঞ্চ যাত্রী নিয়ে ঢাকায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সন্ধ্যার মধ্যে ১৩টি লঞ্চের প্রায় প্রতিটিই কানায় কানায় পূর্ণ। এসব লঞ্চের ডেক ছিল যাত্রীতে ঠাসা। যাঁরা ডেকে স্থান পাননি, তাঁরা দুইতলা ও তিনতলার কেবিনের সামনে ফাঁকা জায়গায় চাদর বিছিয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। এমনকি লঞ্চগুলোর ভিআইপি কেবিনের করিডরেও তিল ধারণের ঠাঁই নেই।

শুক্রবার ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার জন্য বন্দরে যেসব লঞ্চ নোঙর করা ছিল, সেগুলো হলো অ্যাডভেঞ্চার-১, মানামী, পারাবত-৯, ১০ ও ১৮, সুরভী-৮ ও ৯, সুন্দরবন-১০, কীর্তনখোলা-১০ ও ২, কুয়াকাটা-২ এবং ভায়া লঞ্চ পূবালী-৭ ও সুন্দরবন-১২। আজ সন্ধ্যা ৬টার পর থেকে রাত ৮টার মধ্যে লঞ্চগুলো একে একে ঢাকার উদ্দেশে বরিশাল নৌবন্দর ত্যাগ করে।

default-image

সুন্দরবন-৯ লঞ্চে পরিবার নিয়ে উঠেছেন বাকেরগঞ্জের পাদ্রিশিবপুর গ্রামের সাইফুর রহমান। স্ত্রীসহ তিনি গাজীপুরের একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। সাইফুর বলেন, আগামীকাল শনিবার অফিস খুলবে। তাই আজ ঢাকায় রওনা দিয়েছেন। সকালে সদরঘাট নেমে তারপর গাজীপুরে যাবেন। তিনি বলেন, ঘাটের সব কটি লঞ্চই যাত্রীতে পরিপূর্ণ। লঞ্চের বারান্দাতেও যাত্রীরা চাদর পেতে জায়গা করে নিয়েছেন।

সুন্দরবন-১০ লঞ্চের পরিদর্শক মো. হারুন অর রশিদ প্রথম আলোকে বলেন, আজ যাত্রীদের চাপ অনেক বেশি। ১০ মে পর্যন্ত এমন চাপ থাকবে বলে তিনি মনে করেন।

সন্ধ্যায় বরিশাল নৌবন্দর ঘুরে দেখা গেছে, রোভার স্কাউটের সদস্যরা যাত্রীদের শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে বন্দরে প্রবেশ ও লঞ্চে ওঠার কাজ তদারক করছেন। নৌ পুলিশের বরিশাল নৌবন্দর থানার পরিদর্শক মো. হাসানাত জামান বলেন, সব সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিতে নৌ পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে। কোনো লঞ্চে যাতে অতিরিক্ত যাত্রী বহন করতে না পারে, সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে।

বরিশাল নদীবন্দর কর্মকর্তা ও বিআইডব্লিউটিএর যুগ্ম পরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ঈদের আগে ও পরের ১০ দিন ঢাকা-বরিশাল নৌপথে বাল্কহেড চলাচল না করার নির্দেশনা দেওয়া আছে। নদীবন্দর সমন্বয় কমিটির সদস্যরা সতর্কতার সঙ্গে যাত্রীদের ভালোমন্দ দেখভাল করছেন। লঞ্চগুলো অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন করলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আজ তিনটি লঞ্চকে জরিমানা করা হয়েছে। যাত্রী নামাতে বাধ্য করা হয়েছে। তাঁরা কোনো লঞ্চকেই অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন করতে দেবেন না।

বাসেও ভোগান্তি

এদিকে বরিশাল থেকে ঢাকাগামী বাসের টিকিট না পেয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন অনেক যাত্রী। ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলমুখী যাত্রীরা বরিশাল কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল নথুল্লাবাদে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও টিকিট পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, আজ দুপুর থেকে যাত্রীরা বাস টার্মিনাল এসে ঢাকার বাসের জন্য কাউন্টারগুলোতে টিকিটের জন্য ধরনা দিচ্ছেন। টিকিট না পেয়ে অনেক যাত্রীকে অভ্যন্তরীণ পথের বাসগুলোতে চেপে বাধ্য হয়ে মাওয়ার দিকে ছুটতে দেখা যায়। অনেকে আবার মাইক্রোবাসে, মোটরসাইকেলে ভেঙে ভেঙে ঢাকামুখী হন। সন্ধ্যা পর্যন্ত টার্মিনালে ঢাকামুখী যাত্রীদের ব্যাপক ভিড় লক্ষ করা যায়।

default-image

ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা শামসুল আরেফিন বলেন, ‘বাস টার্মিনালে এসে ঢাকার বাসের টিকিট পাওয়া যাচ্ছে না। তাই লোকাল বাসে মাওয়া যাচ্ছি। কিন্তু সেখানেও টিকিটের জন্য দীর্ঘ লাইন। আড়াই ঘণ্টা অপেক্ষা করে মাওয়ার টিকিট পেয়েছি। লঞ্চেও দুর্ভোগ, সড়কেও দুর্ভোগ। উপায় নেই, কর্মস্থলে ফিরতেই হবে। অনেকক্ষণ বসে থাকার পর বিএমএফ পরিবহনের একটি বাসের টিকিট পেয়েছি। মাওয়া পর্যন্ত পৌঁছাতে পারলেই হয়, তারপর ঢাকা যাওয়া যাবে।’

বরিশাল-কাঁঠালবাড়ি-মাওয়া সড়কপথের বিএমএফ পরিবহনের ব্যবস্থাপক মো. নয়ন প্রথম আলোকে বলেন, চাপ সামলাতে ও বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে যাত্রীদের লাইনে দাঁড় করিয়ে টিকিট দেওয়া হচ্ছে। ভাড়া আগের ৩০০ টাকা করেই রাখা হচ্ছে।

বরিশাল-কাঁঠালবাড়ি রুটে চলাচলকারী বিআরটিসি এসি-নন এসি বাসগুলোতেও যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। নির্ধারিত সময়ের গাড়ি হওয়ায় যাত্রীদের চাপ সামাল দিতে তাঁদেরও হিমশিম খেতে হচ্ছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন