বরিশাল বিভাগের ৩৫২ ইউনিয়নে গণটিকাদানের প্রস্তুতি সম্পন্ন
বরিশাল বিভাগে ইউনিয়ন পর্যায়ে শুরু হতে যাচ্ছে গণটিকা কার্যক্রম। আগামীকাল শনিবার বিভাগের ৬ জেলার ৪১টি উপজেলার ৩৫২টি ইউনিয়নে পরীক্ষামূলক এই গণটিকা কার্যক্রম পরিচালিত হবে। টিকা প্রয়োগের জন্য এরই মধ্যে মাঠপর্যায়ে টিকাদান কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। কোন এলাকায় কয়টি করে টিকাকেন্দ্র হবে, এ বিষয়ে মাঠপর্যায়ে ইতিমধ্যে নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সংশ্লিষ্ট জেলা ও উপজেলাগুলোতে টিকার চালান পৌঁছে গেছে বলেও জানা গেছে।
বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানায়, প্রতিটি ইউনিয়নের সাবেক ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইপিআই কেন্দ্রে তিনটি বুথে এই টিকা প্রদান করা হবে। এ জন্য প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে ৬০০টি করে আগাম টিকার কার্ড পাঠানো হয়েছে। এরপর অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বৃদ্ধ, বীর মুক্তিযোদ্ধা, নারীদের মধ্যে বাছাই করে এসব কার্ড বিতরণ করা হবে। এরপর কার্ড নিয়ে কেন্দ্রে গেলেই তাঁরা টিকা পাবেন।
বরিশাল নগরে মডার্না এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সিনোফার্মের টিকা দেওয়া হবে। বিভাগে ইতিমধ্যে সিনোফার্মের ৫ লাখ ১০ হাজার ৪০০ টিকা এসেছে। এর মধ্যে ১ লাখ ৯ হাজার ৭৩৫ ডোজ প্রয়োগ করা হয়েছে। বাকি ৩ লাখ ১৯ হাজার ৬৬৫ ডোজ টিকা পরীক্ষামূলক গণটিকা কার্যক্রমে শনিবার প্রয়োগ করা হবে।
বরিশাল নগরের বাসিন্দাদের ইতিমধ্যে মডার্নার টিকা দেওয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৩৬ হাজার ৮০০ ডোজ মডার্নার টিকা পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ২৪ হাজার ৬৪৬ ডোজ প্রয়োগ করা হয়েছে। বাকি ১ লাখ ১২ হাজার ১৫৪ ডোজ আগামীকাল নগরের ৩০টি ওয়ার্ডের ক্যাম্পে প্রয়োগ করা হবে।
গণটিকাদান কার্যক্রমের প্রস্তুতি নিয়ে গত বুধবার বিকেলে অনলাইনে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রতিটি জেলার জেলা প্রশাসক, সিভিল সার্জন, পুলিশ সুপার (এসপি), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন। গণটিকাদান কার্যক্রমের কার্যক্রম পরিচালনার যাবতীয় প্রস্তুতি, পদ্ধতি ও পরিকল্পনা নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়।
টিকা গ্রহণের জন্য মাঠপর্যায়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ রয়েছে। এটা ইতিবাচক দিক। পর্যায়ক্রমে সবাই টিকা পাবেন।শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডল, বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, প্রতিটি ইউনিয়নের তিনটি ওয়ার্ডের জন্য একটি করে টিকাকেন্দ্র পরিচালনা করা হবে। সেখানে তিনটি বুথ থাকবে। পৌরসভার ক্ষেত্রে প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে টিকাকেন্দ্র থাকবে। সকাল ৯টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত টিকা দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
জানতে চাইলে বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র ও সহকারী পরিচালক শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডল আজ শুক্রবার দুপুরে প্রথম আলোকে বলেন, টিকা প্রদানের জন্য মাঠপর্যায়ে সব প্রস্তুতি শেষ। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের কাছে টিকার কার্ড পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। টিকা গ্রহণের জন্য মাঠপর্যায়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ রয়েছে। এটা ইতিবাচক দিক। পর্যায়ক্রমে সবাই টিকা পাবেন। সরকারের আন্তরিক উদ্যোগ আর প্রচেষ্টায় এরই মধ্যে দেশে বিপুল পরিমাণ টিকা চলে এসেছে।
বরিশাল নগরে মডার্না এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সিনোফার্মের টিকা দেওয়া হবে। বিভাগে ইতিমধ্যে সিনোফার্মের ৫ লাখ ১০ হাজার ৪০০ টিকা এসেছে।
এর আগে গত ৭ ফেব্রুয়ারি সারা দেশের মতো বরিশাল বিভাগে গণটিকাদান শুরু হয়। শুরুতে অক্সফোর্ড অ্যাস্ট্রাজেনেকার কোভিশিল্ড টিকা প্রয়োগ করা হয়েছিল। শুরুতে ২ লাখ ৫০ হাজার ৩০০ জন ব্যক্তি এই টিকা নেন। পরবর্তী সময়ে ভারত টিকা রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ায় অনেকে দ্বিতীয় ডোজের টিকা পাননি। বিভাগের দ্বিতীয় ডোজ না পাওয়া ব্যক্তির সংখ্যা ৬৮ হাজার ৭৬৮ জন। এর মধ্যে দ্বিতীয় ডোজ টিকা নিয়েছেন ১ লাখ ৮১ হাজার ৫৩২ জন। তবে সম্প্রতি জাপান থেকে অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা আসায় বিভাগে নতুন করে ৭২ হাজার ডোজ টিকা পাওয়া গেছে। এই টিকা শুধু দ্বিতীয় ডোজ হিসেবে প্রয়োগ করা হবে।