বরিশাল বিভাগে করোনা শনাক্তের নতুন রেকর্ড, মৃত্যু ১২ জনের

এর আগে গত সোমবারের প্রতিবেদনে ৯৫৩ নমুনা পরীক্ষায় ৪৩৬ জনের সংক্রমণ শনাক্তের উল্লেখ ছিল। আর রোববার এ সংখ্যা ছিল ৩৪৩। ওই দিন নমুনা পরীক্ষা হয় ৭২৮টি।

করোনাভাইরাস।
প্রতীকী ছবি

বরিশাল বিভাগে করোনার সংক্রমণ শনাক্তের রেকর্ড হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে ৮৭৪ নমুনা পরীক্ষা করে ৪৫৯ জনের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। নমুনা পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার ৫২ দশমিক ৫২ শতাংশ। এ সময়ে করোনায় আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ১২ জন।

সোমবার থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর আগে গত সোমবারের প্রতিবেদনে ৯৫৩ নমুনা পরীক্ষায় ৪৩৬ জনের সংক্রমণ শনাক্তের উল্লেখ ছিল। আর রোববার এ সংখ্যা ছিল ৩৪৩। ওই দিন নমুনা পরীক্ষা হয় ৭২৮টি।

গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ১২ জনের মধ্যে ৫ জন করোনায় আক্রান্ত ও ৭ জনের উপসর্গ ছিল। আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়াদের মধ্যে দুজনের বাড়ি ঝালকাঠি, তিনজনের বাড়ি পিরোজপুরে। সোমবার আক্রান্ত ও উপসর্গ মিলিয়ে মারা যান ১৭ জন। রোববার মারা গিয়েছিলেন ৪ জন।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, নতুন শনাক্ত হওয়া ৪৫৯ জনের মধ্যে বরিশাল জেলায় সর্বোচ্চ ১৭৮ জন। এ নিয়ে জেলায় মোট আক্রান্ত ৮ হাজার ৫৩০ জন। এ ছাড়া পটুয়াখালীতে নতুন ৩৬ জনসহ মোট ২ হাজার ৬১৯, ভোলায় নতুন ১৪ জনসহ মোট ২ হাজার ১১৭, পিরোজপুরে নতুন ৮৪ জনসহ মোট ২ হাজার ৫৮৩ জন, বরগুনায় নতুন ৪৩ জনসহ মোট আক্রান্ত ১ হাজার ৫৭২ জন।

ঝালকাঠিতে নতুন ১০৪ জনসহ মোট শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ১১১ জনে। আর বিভাগে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ১৯ হাজার ৫৩২।

নতুন করে মারা যাওয়া ১২ জনের মধ্যে উপসর্গ থাকা ৭ জনসহ ৯ জন বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। বিভাগে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়েছিল গত মে মাসের শুরুতে। মে মাসের শেষ সপ্তাহে সংক্রমণ অনেকটা নিম্নমুখী হয়ে জুনের মাঝামাঝি পর্যন্ত স্থিতিশীল ছিল। কিন্তু ১৬ জুনের পর তা আবার বাড়তে থাকে। তবে পুরো বিভাগে নয়; বরিশাল, পিরোজপুর ও ঝালকাঠি—এই তিন জেলা ঘিরে সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি দেখা যায়।

পিরোজপুরে করোনার ভারতীয় ধরন শনাক্ত হওয়ার পর থেকেই স্বাস্থ্য বিভাগের শঙ্কা ছিল এই তিন জেলা নিয়ে। কারণ, দক্ষিণ-পশ্চিমের সঙ্গে এই তিন জেলার সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে উদ্বেগ ছিল লকডাউন শুরুর আগে বিপুলসংখ্যক লোকের গ্রামে ফেরা নিয়ে।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডল বলেন, বরিশাল বিভাগের সংক্রমণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। এর গতি কোথায় গিয়ে থামবে, তা বলা মুশকিল। গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত রোগীর সংখ্যা এবং মৃত্যু আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এতে পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডল বলেন, হাসপাতালগুলোতে যাতে শয্যার সংকট না হয়, সে ব্যাপারে খেয়াল রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি শয্যাসংখ্যা ও চিকিৎসক পদায়ন করার ব্যাপারে এরই মধ্যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারি হাসপাতালগুলোতেই শয্যাসংখ্যা বাড়ানো হবে বলেও জানান তিনি।