বরিশাল বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় ২৮ জনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ৬২৪

করোনাভাইরাসের প্রতীকী ছবি

বরিশাল বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল আটটা থেকে আজ শুক্রবার সকাল আটটা পর্যন্ত) করোনা ও করোনার উপসর্গ নিয়ে সর্বোচ্চ ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে করোনায় ১৪ জন ও করোনার উপসর্গ নিয়ে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

একই সময়ে ১ হাজার ৯২৮ জনের নমুনা পরীক্ষায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ৬২৪ জনের। নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ৩২ দশমিক ৩৭ শতাংশ। আজ শুক্রবার বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এর আগের ২৪ ঘণ্টায় করোনা ও করোনার উপসর্গ নিয়ে বিভাগে সর্বোচ্চ ৩২ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এটা এই বিভাগে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড। এর মধ্যে করোনায় ১৫ জন ও করোনার উপসর্গ নিয়ে ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছিল। একই সময়ে ৮৫৮ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছিল। নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ছিল ৩৬ দশমিক ৩১ শতাংশ।

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে বরিশালে সর্বোচ্চ পাঁচজন, পটুয়াখালী ও ভোলা জেলায় চারজন করে এবং ঝালকাঠিতে একজন মারা গেছেন। এ নিয়ে বিভাগে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ৫২৮। উপসর্গ নিয়ে ১৪ জনই মারা যান বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটের আইসোলেশন ওয়ার্ডে। এ নিয়ে এই হাসপাতালে গত বছরের এপ্রিল থেকে আজ সকাল পর্যন্ত উপসর্গে নিয়ে ৮৪৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৯১ জনের নমুনা পরীক্ষার ফলাফল অপেক্ষমাণ।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে মোট ১ হাজার ৯২৮ জনের নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। নতুন করে শনাক্ত হওয়া ৬২৪ জনের মধ্যে বরিশাল জেলায় সর্বোচ্চ ২০৩ জন রয়েছেন। এ নিয়ে বরিশালে করোনা রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ১৫ হাজার ৫৩৫ জন। এ ছাড়া পটুয়াখালীতে নতুন ১২৭ জন নিয়ে ৫ হাজার ১৩১ জন, ভোলায় নতুন ১৫৬ জনসহ ৪ হাজার ৭৩৪ জন, পিরোজপুরে নতুন ৪৪ জনসহ ৪ হাজার ৬৮২ জন, বরগুনায় নতুন ৪৯ জন নিয়ে ৩ হাজার ২৪৯ জন ও ঝালকাঠিতে নতুন ৪৫ জন নিয়ে মোট ৪ হাজার ২৮২ জন রয়েছেন।

আগস্টে ৬ দিনে মৃত্যু ১৩৯
এবার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয় চলতি বছরের মে মাসে। মে মাসে বিভাগে করোনা শনাক্ত হয়েছিল ১ হাজার ৪৪ জনের। জুনে ৮ গুণ বেড়ে শনাক্ত হয় ৮ হাজার ৯৫২ এবং জুলাইয়ে তা আরও বেড়ে দাঁড়ায় ১৩ হাজার ১৪৮। ৩১ জুলাই পর্যন্ত বিভাগে করোনায় মারা গেছেন ৪৬৯ জন। এর মধ্যে মে থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছিল ২০৭ জনের, যা মোট মৃত্যুর ৪৪ দশমিক ১৩ শতাংশ। শুধু জুলাই মাসেই করোনায় মৃত্যু হয়েছিল ১৫৮ জনের। বিভাগে মোট করোনা শনাক্তের ৩৯ দশমিক ৬৬ শতাংশ করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছিল সদ্য শেষ হওয়া জুলাই মাসে। এ মাসে মারা গিয়েছেন ৪৪ দশমিক ১৩ শতাংশ রোগী।

আগস্টেও সংক্রমণ ও মৃত্যু ক্রমেই বাড়ছে। স্বাস্থ্য বিভাগের উপাত্ত পর্যালোচনায় দেখা যায়, আগস্টের ৬ দিনে বিভাগের ৬ জেলায় ৪ হাজার ৪৭৮ জনের করোনা শনাক্ত হয়। আজ পর্যন্ত ৬ দিনে বিভাগের ৬ জেলায় ৪ হাজার ৪৭৮ জনের করোনা শনাক্ত হওয়ার পাশাপাশি এই ৬ দিনে মারা গেছেন ১৩৯ জন। তাঁদের মধ্যে ৫৯ জন করোনা পজিটিভ ছিলেন এবং বাকি ৮০ জন মারা গেছেন করোনার উপসর্গ নিয়ে।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডল বলেন, জুলাইয়ে এই বিভাগে শনাক্ত ও মৃত্যুহার আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গিয়েছিল। কিন্তু আগস্টে এসেও সেই ঊর্ধ্বগতি কমেনি বরং বেড়েছে। বিশেষ করে আগস্টের শুরু থেকে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে সবাইকে টিকা নিতে উদ্যোগী হতে হবে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।