default-image

বরিশাল বিভাগে করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতির ক্রমেই অবনতি হচ্ছে। আজ বুধবার ২৪ ঘণ্টায় এই বিভাগে এক দিনে সর্বোচ্চ সংক্রমণ হয়েছে। এই ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে ১৩৫ জনের। আর মারা গেছেন একজন। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছিলেন ১২২ জন, আর মৃত্যু হয়েছিল দুজনের। এ নিয়ে করোনায় এই বিভাগে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ২১৮।

এদিকে বরিশালের শের-ই–বাংলা মেডিকেল কলেজের আরটি-পিসিআর ল্যাবেও আজ এক দিনে সর্বোচ্চ করোনা পজিটিভ রোগী শনাক্ত হয়েছে। আজ শেষ ২৪ ঘণ্টায় ১৮৮ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৭৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়, যা মোট পরীক্ষার ৩৮ দশমিক ৮২ শতাংশ। গত বছরের ৮ মে মেডিকেল কলেজের আরটি-পিসিআর ল্যাব চালু হওয়ার পর এটাই সর্বোচ্চ শনাক্তের রেকর্ড। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় ১৮৬ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৫৮ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছিল। শনাক্তের হার ছিল ৩১ দশমিক ১৮। তারও আগের ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার ছিল ২১ দশমিক ৬২ শতাংশ।

বরিশালের শের-ই–বাংলা মেডিকেল কলেজের আরটি-পিসিআর ল্যাবেও আজ এক দিনে সর্বোচ্চ করোনা পজিটিভ রোগী শনাক্ত হয়েছে।

সংক্রমণের হার ক্রমেই বাড়তে থাকায় উদ্বিগ্ন স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা। তাঁরা বলছেন, করোনার প্রথম ঢেউয়ে বরিশাল বিভাগে শনাক্তের হার কম ছিল। কিন্তু দ্বিতীয় ঢেউয়ে এই হার অনেক বেশি। বর্তমানে এই হার ২৬ শতাংশের কাছাকাছি। এ জন্য শুধু টিকা নিলেই চলবে না, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা জরুরি।

বিজ্ঞাপন
মানুষ স্বাস্থ্যবিধি সঠিকভাবে না মানায় সংক্রমণের হার বাড়ছে। সবাই নিজ থেকে উপলব্ধি না করলে সংক্রমণ ঠেকানো যাবে না। আগামীতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
এ কে এম আকবর কবির, শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের আরটি-পিসিআর ল্যাবের ইনচার্জ

শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের আরটি-পিসিআর ল্যাবের ইনচার্জ সহকারী অধ্যাপক এ কে এম আকবর কবির বলেন, মানুষ স্বাস্থ্যবিধি সঠিকভাবে না মানায় সংক্রমণের হার বাড়ছে। সবাই নিজ থেকে উপলব্ধি না করলে সংক্রমণ ঠেকানো যাবে না। আগামীতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, গত ফেব্রুয়ারিতে বরিশাল বিভাগে আক্রান্তের হার ২ থেকে ৩ শতাংশে নেমে যায়। মার্চের প্রথম দুই সপ্তাহেও একই হার স্থির ছিল। তখন প্রতিদিন গড়ে দুই থেকে তিনজন আক্রান্ত হতেন। কিন্তু মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে অর্থাৎ ১৫ মার্চ থেকে এক লাফে এই সংখ্যা গড়ে ১২ জনে পৌঁছায়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই এই বিভাগে করোনার সংক্রমণ ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করে। ১৩ থেকে ১৯ মার্চ এই সাত দিনে বিভাগের ছয় জেলায় আক্রান্ত হন মাত্র ৭৭ জন। কিন্তু ২০ থেকে ২৬ মার্চ পরের সাত দিনে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২২৮, অর্থাৎ প্রায় তিন গুণ। ১৬ মার্চ থেকে ৩ এপ্রিল এই ১৯ দিনে বিভাগে আক্রান্ত হন ১ হাজার ৯৯১ জন। আর ৪ থেকে ৭ এপ্রিল এই চার দিনে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৪২৪ জনের।

এদিকে সরকার ঘোষিত ৭ দিনের লকডাউন বরিশালে পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। আজ তৃতীয় দিনেও ঢিলেঢালাভাবে চলছে লকডাউন। বরিশাল থেকে আন্তজেলা ও দূরপাল্লার লঞ্চ-বাস বন্ধ থাকলেও নগরের ভেতরে থ্রি-হুইলার ও রিকশা চলাচল ছিল অনেকটা স্বাভাবিক।

এবার একটি বাজে প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে। তা হলো আগেরবার সংক্রমিত ব্যক্তি বাড়িতে একেবারে আলাদা (আইসোলেশন) থাকতেন। কিন্তু এবার তা মানা হচ্ছে না। রোগীকে পরিবারের সবাই পরিচর্যা করছেন এবং সংস্পর্শে আসছেন। এতে এক পরিবারে অনেকের আক্রান্ত হওয়ার নজির আছে।
শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডল দুপুরে, বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক

গণপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি রক্ষা হয়নি। তবে রাস্তাঘাটে আগের চেয়ে তুলনামূলক মানুষ কমেছে। এরপরও নগরের প্রধান প্রধান বাজারগুলোতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে। অনেক এলাকায় পোশাক, প্রসাধনী ও মুঠোফোন বিক্রির দোকানগুলো অর্ধেক শাটার তুলে খোলা রাখতে দেখা গেছে।

লকডাউন কার্যকরসহ স্বাস্থ্যবিধি রক্ষায় নগরে দুটি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছে জেলা প্রশাসন। আজ সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরাফাত হোসেনের ভ্রাম্যমাণ আদালত নগরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৭ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ২ হাজার ৪০০ টাকা এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিশাত ফারাবীর ভ্রাম্যমাণ আদালত ১ হাজার ৯০০ টাকা অর্থদণ্ড দেন।

বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডল দুপুরে প্রথম আলোকে বলেন, সংক্রমণের যে গতি তা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক করে তুলছে। লকডাউন কিছুটা ঢিলেঢালা চললেও লঞ্চ ও দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ থাকায় সংক্রমণ গ্রামে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা অনেকটা দূর হয়েছে। তবে এবার একটি বাজে প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে। তা হলো আগেরবার সংক্রমিত ব্যক্তি বাড়িতে একেবারে আলাদা (আইসোলেশন) থাকতেন। কিন্তু এবার তা মানা হচ্ছে না। রোগীকে পরিবারের সবাই পরিচর্যা করছেন এবং সংস্পর্শে আসছেন। এতে এক পরিবারে অনেকের আক্রান্ত হওয়ার নজির আছে। এ ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পাশাপাশি সংক্রমিত ব্যক্তিকে পুরোপুরি আইসোলেশনে রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন