বিজ্ঞাপন

পাউবো বরিশাল আঞ্চলিক প্রধান প্রকৌশলী কার্যালয় সূত্র জানায়, ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে জোয়ারের পানির তোড়ে বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। প্রাথমিক হিসাবে, এই বিভাগের ৬ জেলায় ২৭২টি স্থানে ৮৮ দশমিক ৬ কিলোমিটার বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৪৯টি স্থানে সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২৪ দশমিক ২ কিলোমিটার। আংশিক ক্ষতি হয়েছে ২২৩টি স্থানে ৬৪ দশমিক ৪ কিলোমিটার বাঁধ। এ ছাড়া নদীর পাড় ভেঙে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩৬টি স্থানে ৬ দশমিক ২৮ কিলোমিটার। নদীতীর সংরক্ষণকাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১০টি স্থানে ১ দশমিক ৮ কিলোমিটার। এ ছাড়া পানির তোড়ে স্লুইসগেট, রেগুলেটর ও অন্যান্য অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৪৫টি।

default-image

ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধের মধ্যে ভোলায় ২ দশমিক ৩০ কিলোমিটার সম্পূর্ণ এবং ৬ দশমিক ৩৫ কিলোমিটার আংশিক ক্ষতি হয়। বরগুনায় সম্পূর্ণ ক্ষতি হয় দশমিক ৬৫০ কিলোমিটার এবং ১৬ দশমিক ৫৮০ কিলোমিটার আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পটুয়াখালীতে আংশিক ক্ষতি হয় ৩০ দশমিক ৬১৫ কিলোমিটার এবং সম্পূর্ণ ক্ষতি হয় ১১ দশমিক ৪০০ কিলোমিটার বাঁধ। ঝালকাঠি জেলায় সম্পূর্ণ ক্ষতি হয় শূন্য দশমিক ১০০ কিলোমিটার এবং আংশিক ক্ষতি হয় ১ দশমিক ৫০০ কিলোমিটার। পিরোজপুরে সম্পূর্ণ ক্ষতি হয়েছে ৩ কিলোমিটার এবং আংশিক ক্ষতি হয়েছে ৩ দশমিক ৩৫০ কিলোমিটার। বরিশালে সম্পূর্ণ ক্ষতি হয়েছে শূন্য দশমিক ২২০ কিলোমিটার এবং আংশিক ক্ষতি হয়েছে ৩ দশমিক ৬৬৯ কিলোমিটার বাঁধ।

পাউবোর বরিশাল আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী ‍নুরুল ইসলাম সরদার প্রথম আলোকে বলেন, এটা প্রাথমিক হিসাব। পূর্ণাঙ্গ হিসাব পেতে আরও বেশ কয়েক দিন সময় লাগবে। তবে প্রাথমিক হিসাবে যে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা পাওয়া গেছে, তা পুনর্বাসনে ১৬৩ কোটি প্রয়োজন। তবে ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তালিকা অনুযায়ী এই ব্যয় বৃদ্ধি পেতে পারে।

default-image

ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে সৃষ্ট প্রবল জোয়ারের তোড়ে বরিশালের উজিরপুর উপজেলার উজিরপুর-সাতলা বেড়িবাঁধ সড়ক ভেঙে গেছে। এতে চারটি ইউনিয়নের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ হয়েছে বিচ্ছিন্ন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১০ গ্রামের মানুষ। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত কয়েক দিনে সন্ধ্যা নদীর পানি বাড়তে থাকে। গতকাল বুধবার দুপুরে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়। পানির চাপে সড়ক উপচে সাতলা, বরাকোঠা, ওটরা ও হারতার বিভিন্ন গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বেড়িবাঁধ ভেঙে বরিশাল জেলা ও উজিরপুর উপজেলা সদরের সঙ্গে সাতলা, বরাকোঠা, ওটরা ও হারতা ইউনিয়নের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

জেলায় হিজলা উপজেলার পুরাতন হিজলা এলাকার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ৩০০ মিটার ভেঙে গেছে। মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি শ্রীপুর ইউনিয়নের বহেরচরের পাঁচটি ঘর পানির চাপে ধসে পড়েছে। পানির চাপে জয়নগর, দড়িরচর-খাজুরিয়া, বিদ্যানন্দপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন বাঁধ, রাস্তা, সেতু ও কালভার্টের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দড়িচর-খাজুরিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সিকদারহাটে অবস্থিত কমিউনিটি ক্লিনিক নদীভাঙনের মুখে আছে। চাঁদপুর ইউনিয়নের নির্মাণাধীন রাস্তার কয়েক মিটার ভেঙে গেছে।

এদিকে ইয়াসের প্রভাবে চলমান জলোচ্ছ্বাসে মৎস্য খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতে বিভাগের ৬ জেলায় ভেসে গেছে ২ হাজার ৮৬১ হেক্টর আয়তনের ১৭ হাজার ২০৯টি ঘের ও পুকুরের মাছ। এতে ২‍ হাজার ৫৩৫ মেট্রিক টন মাছ ভেসে গেছে। আর অবকাঠামো ক্ষতি হয়েছে ৬ কোটি ৯৬ লাখ টাকার সমপরিমাণ। আর মৎস্য খাতে মোট ক্ষতি ৮২ কোটি ৮ লাখ টাকা।

default-image

বিভাগীয় মৎস্য বিভাগের উপপরিচালক আনিসুর রহমান তালুকদার প্রথম আলোকে বলেন, জলোচ্ছ্বাস এখনো চলমান। তাই পূর্ণাঙ্গ ক্ষয়ক্ষতির তালিকা পেতে আরও বেশ কিছুদিন সময় লাগবে।

তবে কৃষি বিভাগের কোনো ক্ষয়ক্ষতির তালিকা আজ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। বিভাগীয় কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক মো. তাওফিকুল আলম আজ বিকেলে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা মাঠপর্যায় থেকে তথ্য সংগ্রহ করে প্রতিবেদন তৈরি করছি। একটু সময় লাগছে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন