default-image

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর এক বছরের বেশি সময় ধরে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বর্জ্য অপসারণ বন্ধ রয়েছে। হাসপাতালের করোনা ইউনিটের সামনের বিশাল গর্ত খুঁড়ে ১৫০ শয্যার করোনা ওয়ার্ডের বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। একইভাবে হাসপাতালের পেছনের মূল ভাগাড়টিও বর্জ্যে উপচে পড়ছে। সেখান থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। পরিবেশ বিষিয়ে ওঠার পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য হুমকিতে পড়ছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে বেশি চিকিৎসাবর্জ্য বের হচ্ছে হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ড থেকে। এ ছাড়া মূল হাসপাতালের বর্জ্য তো আছেই। করোনা ওয়ার্ডের বর্জ্য ওই ভবনের সামনের অংশেই মাটি খুঁড়ে বিশাল গর্তে ও তার আশপাশে ফেলা হচ্ছে। সেখান থেকে প্লাস্টিকের একবার ব্যবহারযোগ্য বাটি, গ্লাস, স্যালাইনের ব্যাগ, সিরিঞ্জ, পানির বোতল, ওষুধের খালি (প্লাস্টিক ও কাগজের) প্যাকেটসহ ব্যবহৃত নানা বর্জ্য বস্তায় ভরে ভাঙারি ব্যবসায়ীরা নিয়ে যাচ্ছেন।

শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আউটডোর ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সৌরভ সুতার বলেন, সাধারণত হাসপাতালের বর্জ্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। আর সংক্রমিত ব্যাধি করোনায় আক্রান্ত রোগীর বর্জ্য আরও মারাত্মক ক্ষতিকর। এসব বর্জ্য পুড়িয়ে ফেলা, নয়তো মাটিচাপা দেওয়াই উত্তম। নয়তো যে কেউ সংক্রমিত হতে পারেন।

বিজ্ঞাপন

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, হাসপাতালের মূল ভবনের পেছনে নির্দিষ্ট ভাগাড় রয়েছে। সেখানে বর্জ্য ফেলার পর সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা বর্জ্য অপসারণ করেন। কিন্তু করোনা পরিস্থিতি শুরুর পর গত বছরের এপ্রিল থেকে বর্জ্য অপসারিত হয়নি। এতে ওই ভাগাড় ভরাট হয়ে উপচে পড়ছে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মূল ফটকের পাশে এবং নতুন ভবনের (করোনা ইউনিট) সামনে গত জুলাই মাসে দুটি বড় গর্ত করে বর্জ্য ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর মধ্যে জরুরি বিভাগের পাশের গর্তটি ভরাট হয়ে ময়লা-আবর্জনা উপচে পড়ায় সেটি ভরাট করে ফেলা হয়েছে। হাসপাতালের পূর্ব দিকে নতুন নির্মিত ভবনের (করোনা ইউনিট) সামনের গর্তটিও বর্জ্যে ভরাট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। সেখান থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। ওই গর্ত গত বছরের জুলাইয়ের শেষের দিকে খনন করে সিটি করপোরেশন। বর্তমানে পেছনের পুরোনো ভাগাড় এবং করোনা ওয়ার্ডের সামনের রাস্তায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ক্লিনিক্যাল বর্জ্য ফেলা হচ্ছে।

এ সম্পর্কে জানার জন্য বরিশাল সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা বিভাগের প্রধান রবিউল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, এক হাজার শয্যার এ হাসপাতালে স্বাভাবিক সময়ে অন্তত দুই হাজার রোগী ভর্তি থাকেন। এ ছাড়া প্রতিদিন বহির্বিভাগে তিন-চার হাজার রোগী আসেন। এই রোগীদের চিকিৎসাবর্জ্য হিসেবে প্রতিদিন এক থেকে দেড় মেট্রিক টন বর্জ্য জমা হয় হাসপাতালে। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে রোগীর সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে। এতে প্রতিদিন ৩ থেকে ৪ টন বর্জ্য জমা হচ্ছে। ১০০০ শয্যার হাসপাতালে ঝাড়ুদারের ২৭০টি পদে মধ্যে আছেন ৭৮ জন। এর মধ্যে ১৫ থেকে ২০ জন শারীরিকভাবে অক্ষম। এমএলএসএসের ৪৪৮টি পদের মধ্যে কর্মরত আছেন ১৩৫ জন। এর মধ্যে ২০ থেকে ২৫ জনের এখন আর এই ধরনের কাজ করার শারীরিক সক্ষমতা নেই। ঘাটতি জনবল দিয়ে হাসপাতাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করা অসম্ভব।

হাসপাতালের পরিচালক এইচ এম সাইফুল ইসলাম বলেন, বর্জ্যগুলো আগে সিটি করপোরেশন নিয়ে যেত। তবে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের মাধ্যমে করোনাঝুঁকি ছড়াতে পারে, এমন আশঙ্কায় তা অপসারণ বন্ধ রাখা হয়েছে। এ জন্য মাটি খুঁড়ে এই বর্জ্য চাপা দেওয়া হচ্ছে।’

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন