ছায়ার পাশাপাশি যেন স্বর্গীয় সৌন্দর্য শোভা পাচ্ছে ক্যাম্পাসজুড়ে। শাল, দেবদারু, পলাশ, কাউফল, আঁশফল, সফেদা, আলুবোখারা, আমলকী, বট, পাকুড়, হরীতকী, বহেড়া, অর্জুন, কাইজেলিয়া, রাবার, সোনালু, বিলাতি গাব, জাতনিম, বুদ্ধ নারকেল, কাঠবাদামের গাছ সতেজ শরীর নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ফুলের মধ্যে নীলমণিলতা, ঝুমকোলতা, লাল কাঞ্চন, শ্বেতকাঞ্চন, তিন রকম কাঠগোলাপ, তিন ধরনের চেরি, বাগানবিলাসসহ অনেক ফুল। মাধবীলতাও রয়েছে।

রয়েছে দুর্লভ গাছের মধ্যে গ্লিরিসিডিয়া, জয়তুন, পারুল, হৈমন্তী, জয়ফল, জয়ত্রী, ঢাকি জাম, তেলসুর, পালাম, পুত্রঞ্জীব, কানাইডিঙা, হলদু, দইবোঁটা, মিসরীয় ডুমুর, মহুয়া, পানিয়াল, পেস্তাবাদাম, কাজুবাদাম, চিকরাশি ও নাগেশ্বর। ছাত্রদের আবাসিক হলের দিকে যাওয়ার আগেই কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের উত্তর ও দক্ষিণ প্রাঙ্গণ সবুজে ঢেকে আছে। নারকেলগাছের সারি যে কারও নজর কাড়বে। গ্রন্থাগার পেরিয়ে ছাত্রদের হলের দৃষ্টিনন্দন সড়ক। একদিকে খোলা অন্যদিক জারুলগাছের দীর্ঘ সারি। কী মনোরম দৃশ্য। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের সামনে কয়েকটি গোলাপজামের গাছ। ছাতার মতো আকৃতি নিয়ে ডালপালা ছড়িয়েছে।

default-image

বন্ধ ক্যাম্পাসে দুজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা হলো। রবিউল ইসলাম নামের একজন শিক্ষার্থী বললেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর শেষ হয়েছে। চলে যেতে হবে প্রিয় ক্যাম্পাস ছেড়ে। তাই ঈদের এক দিন আগে কয়েকজন বন্ধু মিলে ঘুরছেন-ফিরছেন। উপভোগ করছেন সবুজের সমারোহ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ার সামনে দিয়ে উপাচার্যের বাসার দিকে চলে যাওয়া সড়কের দুদিকের গাছের সারি সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে তুলেছে। যে কেউ এই সড়কে হাঁটলে মনে দোল খেয়ে যাবে। সড়কের দুই পাশে ফুটে আছে সোনালু, জারুল আর কৃষ্ণচূড়া। প্যারিস রোডে কনকচাঁপা, মণিমালা, কুসুম, ভুঁই কদম, জংলি বাদাম, লোহা কাঠ, গজারি, গর্জন, সুলতান চাপা, বাজনা, পাদাউক, বাজনা, সিন্দুরী, রক্তন, বনআশরা, জ্যাকারান্ডাসহ হরেক রকম গাছ। শিক্ষক-কর্মকর্তা ডরমিটরির সামনে এবং মসজিদের উত্তর-পশ্চিমে বিশাল দুটি আমবাগান। সব মিলিয়ে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস এখন সবুজ সমুদ্র।

এত এত গাছ রোপণের প্রধান উদ্যোক্তা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক তুহিন ওয়াদুদ। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, এ পর্যন্ত ক্যাম্পাসে দুই শতাধিক প্রজাতির ৩৫ হাজারের ওপরে গাছ লাগানো হয়েছে। ক্যাম্পাস দুর্লভ বৃক্ষের সংগ্রহশালা হয়ে উঠবে, সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। তাঁর আশা, আগামী দিনে পাখিদের জন্যও অভয়ারণ্য হয়ে উঠবে এই ক্যাম্পাস।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন