default-image

চৈত্রের সন্ধ্যা। চারদিকে অন্ধকার। আলো ছড়াতে আকাশে উঁকি দিচ্ছে একফালি চাঁদ। এর মধ্যে মঞ্চে এলেন একঝাঁক নবীন-প্রবীণ শিল্পী। তাঁরা গেয়ে ওঠেন, ‘বসন্ত বাতাসে সই গো, বসন্ত বাতাসে...।’ গানের সঙ্গে নৃত্যের মাধ্যমে স্বাগত জানানো হয় অতিথিদের। এরপর বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করে ‘শোনো, একটি মুজিবরের থেকে লক্ষ মুজিবরের কণ্ঠস্বরের ধ্বনি’ গানটি। সঙ্গে নৃত্যশিল্পী ও অতিথিদের প্রদীপ প্রজ্বালন।

এভাবেই আলোক শিখায় বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ, বসন্তের উচ্ছলতা প্রকাশ ও সত্য-সুন্দরের বন্দনার মধ্য দিয়ে আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় শুরু হয়েছে পাবনা বইমেলা। বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম বকুল স্বাধীনতা চত্বরে মাসব্যাপী এই মেলা বসেছে।

জেলা শহরের ১৩০ বছরের ঐতিহ্যবাহী গণগ্রন্থাগার অন্নদা গোবিন্দ পাবলিক লাইব্রেরির উদ্যোগে মেলার আয়োজন করছে বইমেলা উদযাপন পরিষদ। মাসব্যাপী বইমেলার পাশাপাশি অন্নদা গোবিন্দ পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে শুরু হয়েছে সপ্তাহব্যাপী পুস্তক প্রদর্শনী।

আলোক প্রজ্বালন ও বেলুন উড়িয়ে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন জেলার প্রবীণ শিক্ষক অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুজ্জামান। অন্নদা গোবিন্দ পাবলিক লাইব্রেরির সভাপতি ও স্কয়ার গ্রুপের পরিচালক অঞ্জন চৌধুরীর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ, পুলিশ সুপার মো. মহিবুল ইসলাম খান, বইমেলা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শিবজিত নাগ, অন্নদা গোবিন্দ পাবলিক লাইব্রেরির মহাসচিব আবদুল মতীন খান প্রমুখ। উদ্বোধনী পর্ব শেষে অতিথিরা মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন।

আয়োজকেরা জানান, মাসব্যাপী এ মেলায় ঢাকার প্রথমা প্রকাশন, পাবনার মহিয়সী প্রকাশনী, পাঠাক আড্ডা, পাঠশালা, বিকিকিনি মাঠসহ বিভিন্ন প্রকাশনী ও পুস্তক বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ২৯টি স্টল রয়েছে।

মেলায় বই কেনার পাশাপাশি পাঠকেরা অন্নদা গোবিন্দ পাবলিক লাইব্রেরির প্রদর্শনীতে দুর্লভ বিভিন্ন বইয়ের সঙ্গে পরিচিত হতে পারবেন। এ ছাড়া মেলামঞ্চে প্রতিদিন সন্ধ্যায় থাকবে বই নিয়ে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা আলোচনায় অংশ নেবেন। প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে রাত ১০ পর্যন্ত মেলা প্রাঙ্গণ বইপ্রেমীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। তবে মেলায় প্রবেশের ক্ষেত্রে অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন