বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

স্থানীয় কৃষক শাহাবুদ্দিন (৩৫) প্রথম আলোকে বলেন, ঈদের দিন সন্ধ্যায় তিনি ধানখেতের মধ্যে লজ্জাবতী বানরটি দেখতে পান। পরে তাঁরা কয়েক কৃষক গিয়ে ওই বানরকে বস্তায় ঢোকাতে গেলে বানরটি তাঁর হাতের আঙুল কামড়ে দেয়। পরে পেঁয়াজ রাখার খাঁচায় তাঁরা বানরটিকে বন্দী করেন। এর পর থেকে বানরটি কিছুই খাচ্ছিল না। পরে গতকাল সন্ধ্যায় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের পরামর্শে এটি স্থানীয় একটি চিড়িয়াখানায় দেওয়া হয়েছে।

এদিকে বানর ধরা পড়ার খবরে গ্রামের লোকজন শাহাবুদ্দিনের বাড়িতে ভিড় জমান। বাদামি রঙের ঘন পশমযুক্ত বানরটির উচ্চতা দেড় ফুট, লম্বায়ও দেড় ফুট। চোখ দুটি গোল, দেখতে বিড়ালের মতো ঘোলাটে।

default-image

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান মনজুরুল কিবরিয়া প্রথম আলোকে বলেন, লজ্জাবতী বানর দেশের ১০টি অতিবিপন্ন প্রাণীর মধ্যে অন্যতম। এটি স্লো লরিস (স্থানীয় নাম লজ্জাবতী বানর) নামে পরিচিত। এই দুর্লভ প্রাণী আজকাল দেখা যায় না। বনে গাছগাছালি কমে যাওয়ায় এটি লোকালয়ে চলে আসতে পারে। এটি মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া কেউ বাড়িতে কিংবা চিড়িয়াখানায় আটকে রাখতে পারবেন না।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বিভাগীয় বন্য প্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা দীপান্বীতা ভট্টচার্য্য প্রথম আলোকে বলেন, ধানখেত থেকে বানর উদ্ধারের ব্যাপারে তাঁরা কিছু জানেন না। তবে বানরটি উদ্ধারের জন্য দ্রুত খোঁজ নেওয়া হবে। বানর খাঁচা কিংবা চিড়িয়াখানায় আটকে রাখার সুযোগ নেই। বনে ছেড়ে দিতে হবে। আর এ প্রজাতির বানর অতি সংকটাপন্ন ও সংরক্ষিত। এগুলো আটকে রাখা দণ্ডনীয় শাস্তিযোগ্য অপরাধ। যাঁরা আটকে রেখেছেন, তাঁরা ভুল করছেন। এসব প্রাণী ধরা যাবে না।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন