বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

পদত্যাগপত্র জমা দেওয়া ওই পাঁচ নেতা হলেন সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ–দপ্তর সম্পাদক ও পূর্ব-ইলিশা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. আনোয়ার হোসেন, পূর্ব-ইলিশা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. আনোয়ার হোসেন, পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. গিয়াস উদ্দিন, ভেদুরিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. মোসলেহ উদ্দিন পাটওয়ারী এবং রাজাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও চেয়ারম্যান প্রার্থী রেজাউল হক।

সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, পঞ্চম ধাপে আগামী ৫ জানুয়ারি ভোলা সদর উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। যাচাই–বাছাইয়ের পর ৬৬ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী টিকে আছেন। এর মধ্যে ২৪ জন (আওয়ামী লীগের ১২, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ১১ ও জাকের পার্টির ১) দলীয় প্রার্থী। বাকি ৪২ জন আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী। ১৯ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে প্রতিটি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তৃণমূল (ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড) নেতাদের ভোটে দলীয় প্রার্থী নির্বাচিত হন। সেখানে যাঁদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে এবং ভোলা জেলা আওয়ামী লীগ যাঁদের মনোনয়ন দেওয়ার জন্য কেন্দ্রে নাম পাঠিয়েছে, তাঁদের অনেকেই দলীয় মনোনয়ন পাননি। কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের ভোটে পিছিয়ে থাকারাই মনোনয়ন পেয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ কারণে তৃণমূল নেতারা যাঁকে ভোট দিয়েছেন, তাঁরা ও সাবেক চেয়ারম্যানেরা ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

দলীয় সূত্র জানায়, ১৫ ডিসেম্বর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ এসব ‘বিদ্রোহী’ চেয়ারম্যান প্রার্থীদের ১৯ ডিসেম্বরের মধ্যে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের জন্য চিঠি দিয়েছে। ওই চিঠিতে প্রত্যাহার না করলে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের পদ থেকে এবং দল থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করার বিষয়ে হুঁশিয়ার করে দেওয়া হয়।

দলীয় পদধারী এসব ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দলীয় কঠোর বিধিনিষেধ থাকলেও তাঁরা প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি। কারণ ভোটার ও দলীয় নেতাদের আশ্বাসেই তাঁরা নির্বাচনী মাঠে অনেক দূর এগিয়েছেন। রাজাপুর, পূর্ব-ইলিশা ইউনিয়নসহ কয়েকটি ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থীরাই তৃণমূলের ভোট প্রথম হয়েছে। ইতিমধ্যে অনেকে অনেক টাকাও খরচ করে ফেলেছেন। তাই এসব ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ চেয়ে আবেদন করেছেন। একই সঙ্গে তাঁরা ব্যক্তিগত কারণ উল্লেখ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পদত্যাগের কথা জানিয়ে দিয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভোলা সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল ইসলাম বলেন, তাঁরা কারও পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেননি। কারণ, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ, মনোনয়নপত্র দাখিলের পর কারও পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হবে না। পদত্যাগ করে মনোনয়নপত্র কিনলে কথা ছিল না।

সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম গোলদার জানান, দলীয় গঠণতন্ত্রের ৪৭ ধারা অনুযায়ী দলীয় সিদ্ধান্ত না মেনে ‘বিদ্রোহী’ হিসেবে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীদের ১৯ ডিসেম্বরের মধ্যে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করার চিঠি দেওয়া হয়েছে। যাঁরা দলের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করবে, তাঁদের আজীবনের জন্য দল থেকে বহিষ্কার করা হবে। যেসব প্রার্থী পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন, আর দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে, সেটা তাঁদের একান্ত ব্যক্তিগত ব্যাপার। দলীয় সিদ্ধান্তের পরিবর্তন হবে না।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন