পার্থর বেঁচে থাকার আকুতি নিয়ে কয়েক দিন আগে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। সেই ভিডিওতে বিছানায় শুয়ে পার্থকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি পার্থ। আমি বাঁচতে চাই। আমি পড়তে চাই।’

আজ দুপুরে পার্থর বড় ভাই শৈলেন্দ্র নাথ রায়কে ফোন করা হলে তাঁর স্ত্রী শর্মিলা রায় ফোন ধরেন। তিনি বলেন, গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর থেকেই পার্থর শারীরিক অবস্থা খারাপ হতে শুরু করে। ভোরের দিকে চিকিৎসক ডাকা হয়। পরে সকালের দিকে পার্থর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর খবর পেয়ে পার্থর বিশ্ববিদ্যালয়ের বড়–ছোট ভাই ও সহপাঠীরা এসেছিলেন। পার্থর চিকিৎসার জন্য সবাই চেষ্টা করেছেন। কিন্তু তাঁকে বাঁচানো গেল না।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, পার্থর পরিবারে আছেন বিধবা মা বিন্দু বালা রায় ও বড় দাদা শৈলেন্দ্র নাথ রায়। সংসার চলে সামান্য কিছু আবাদি জমির ফসল দিয়ে। তাঁর বাবা ভবেশ চন্দ্র রায় ২০১৩ সালে মারা যান। তিনি ছিলেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের একজন মাঠকর্মী। বাবার মৃত্যুর পর ২০১৪ সালে নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় কিডনির রোগে আক্রান্ত হন পার্থ। চিকিৎসার জন্য তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় ভারতে। দুই বছর তাঁর পড়াশোনা বন্ধ ছিল। ভারতে চিকিৎসার পর সুস্থ হলে পার্থ পড়াশোনা শুরু করেন। ২০১৭ সালে এসএসসি ও ২০১৯ সালে এইচএসসি পাস করেন তিনি। করোনাকালে তিনি আবার কিডনির জটিলতায় ভুগতে থাকেন। চিকিৎসকেরা জানিয়ে দেন, কিডনি প্রতিস্থাপন ছাড়া তাঁকে বাঁচানো সম্ভব নয়।

পার্থর চিকিৎসার জন্য ২০ লাখ টাকার প্রয়োজন ছিল। তাঁর পরিবারের পক্ষে এই ব্যয় বহন করা সম্ভব ছিল না। তাঁর বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠীরা নানাভাবে তাঁর জন্য অর্থ সংগ্রহ করছিলেন। পার্থর সহপাঠী মাইদুল ইসলাম বলেন, ‘পার্থর মায়ের কথা ছিল তাঁকে কিডনি দেওয়ার। কিন্তু মা–ছেলের কিডনি ম্যাচ না হওয়াতে সেটা সম্ভব হয়নি। কিডনি খোঁজা হচ্ছিল। কিন্তু পার্থ আমাদের সময় দিল না।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন