বুড়িগোয়ালিনী গ্রামের বাসিন্দা আবদুল হাই বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধের ওপর বছরখানেক আগে সড়ক নির্মাণ করা হয়েছিল। এতে চলাচলের অনেকটা সুবিধা হয়েছে। সুন্দরবন এলাকা থেকে এ সড়ক দিয়ে চিংড়ি, কাঁকড়াসহ বিভিন্ন পণ্য বহন করা যায়। পাশাপাশি পর্যটকরাও এ সড়ক দিয়ে নীলডুমুর খেয়াঘাট হয়ে সুন্দরবনে প্রবেশ করতে পারেন। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ডের নীলডুমুর এলাকার বাঁধটি খোলপেটুয়া নদীর তোড়ে গত এক সপ্তাহ ধরে ভাঙছে। ভাঙন আস্তে আস্তে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ট্রলারচালক সফিকুল ঢালী বলেন, ওই স্থানে বাঁধটি ভাঙলে ভামিয়া, বুড়িয়োলিনী, নীলডুমুর ও দাতনেখালি গ্রাম পানিতে তলিয়ে যাবে। ক্ষতিগ্রস্ত হবে হাজার দশেক মানুষ। ছোট-বড় অসংখ্য চিংড়ি ঘের তলিয়ে যাবে। ভেসে যাবে কাঁকড়ার খামার।

২০২০ সালের ২০ মে ঘূর্ণিঝড় আম্পান ও ২০২১ সালের ২৫ মে ইয়াস আঘাত হানে এ এলাকায়। নীলডুমুর এলাকার চায়ের দোকানি পাম্পু ঢালী বলেন, এখানকার মানুষ এখনো ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারেননি। ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে তাঁদের ঘরবাড়ি নষ্ট ও চিংড়ির ঘের ভেসে গেছে। গ্রামের মধ্যে চায়ের দোকান দিয়ে কোনোরকমে সংসার চালাচ্ছেন। খোলপেটুয়া নদীর জোয়ারে বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকলে দুর্গতির সীমা থাকবে না।

সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বিভাগ-২) সেকশন কর্মকর্তা মাসুদ রানা বলেন, ওই স্থানের ভাঙন সম্পর্কে তাঁর জানা নেই। তা ছাড়া বাঁধটি পাউবোর হলেও পিচের সড়ক নির্মাণ করেছে এলজিইডি। সড়ক ভেঙে যাওয়ার বিষয়ে এলজিইডি লিখিতভাবে কিছু জানায়নি। উপজেলা প্রকৌশলী এস এম শহিদুজ্জামান বলেন, ভাঙনের বিষয়টি তাঁর জানা নেই। জরুরি কাজে জন্য কোনো মৌখিক কিংবা লিখিতভাবে জানানো প্রয়োজন হয় না। পাউবো কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জরুরি পদক্ষেপ নেবেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন