জেলা বিএনপির মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ক্ষমতাসীন দলের লোকজন হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণের কোটি কোটি টাকা লুটেপুটে খাচ্ছেন। বাঁধ নির্মাণকে তাঁরা ব্যবসায় পরিণত করেছেন। ফলে কাজের কাজ কিছুই হয় না। দায়সারাভাবে নির্মাণের কারণে সামান্য ঢলের পানিতে বাঁধ ভেঙে যায়। প্রশাসন, পাউবো আর সরকার দলের লোকজনের অনিয়ম-দুর্নীতির কারণেই হাওর এলাকার কৃষকেরা আজ নিঃস্ব।

শহরে বিক্ষোভ মিছিল শেষে হাওর বাঁচাও আন্দোলন সংগঠনের সদস্যরা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেন। মিছিলটি নিয়ে তাঁরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনের সড়কে গিয়ে মানববন্ধন করেন। মানববন্ধন চলাকালে হাওর বাঁচাও আন্দোলনের জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল হকের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন জেলা কমিটির সভাপতি অলিউর রহমান চৌধুরী, কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি সুখেন্দু সেন ও চিত্তরঞ্জন তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক বিজন সেন রায়, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সালেহিন চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে কুদরত পাশা, জেলা কমিটির সহসভাপতি আলী নুর, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফজলুল করিম, সাংগঠনিক সম্পাদক শহীদনুর আহমদ প্রমুখ।

পরে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু সুফিয়ান জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের হাতে স্মারকলিপি তুলে দেন।

default-image

এদিকে দুপুরে জেলা বিএনপি শহরের পুরোনো বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মানববন্ধন করে। সেখানে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলামের সঞ্চালনায় জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সাংসদ কলিম উদ্দিন আহমদ, সহসভপাতি নাদীর আহমদ, রেজাউল হক, আবুল মনসুর মো. শওকত ও আবুল কালাম আজাদ, জেলা কৃষক দলের সভাপতি আনিসুল হক, জেলা বিএনপির নেতা নূর হোসেন, নজরুল ইসলাম, জিয়াউর রহিম, জামাল উদ্দিন প্রমুখ বক্তব্য দেন। পরে বিএনপির পক্ষ থেকেও জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

এক সপ্তাহ ধরে ভারতের মেঘালয় থেকে নামা পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের নদ-নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে জেলার সব কটি হাওরের ফসল ঝুঁকিতে পড়েছে। গত শনিবার তাহিরপুর উপজেলার টাঙ্গুয়ার হাওরের একটি বাঁধ ভেঙে প্রথমে ফসল তলিয়ে যায়। এরপর জেলার শাল্লা উপজেলায় তিনটি, সদর উপজেলায় একটি, ধর্মপাশা উপজেলায় একটি হাওরে ফসলহানি ঘটেছে। জেলার বিভিন্ন হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধে দিনরাত স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করছেন মানুষজন। তবুও হাওরের ফসল রক্ষা করা যাচ্ছে না।

তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা বলছেন, ভারতের চেরাপুঞ্জির অতিবৃষ্টিই ভয়ের মূল কারণ। সুনামগঞ্জে স্বাভাবিক বৃষ্টি হচ্ছে। কিন্তু চেরাপুঞ্জিতে ব্যাপক বৃষ্টি হওয়ার কারণে ঢল নামছে। এতেই সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছ। তবে প্রশাসন, পাউবো কর্মকর্তাসহ সবাই মাঠে আছেন। ফসল রক্ষার স্বার্থে সব করা হচ্ছে।

সুনামগঞ্জ পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা সবাইকে নিয়ে হাওরের ফসল রক্ষায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। কিন্তু উজান থেকে অস্বাভাবিক পরিমাণে ঢল নেমে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। উজানে বৃষ্টি কমলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করছি।’

সুনামগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এবার জেলায় ২ লাখ ২২ হাজার ৮০৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়। ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৩ লাখ ৫০ হাজার ২২০ মেট্রিক টন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন