বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

বাড়ইল গ্রামের বাসিন্দা মোবারক আলী বলেন, এমনিতেই পাহাড়ি ঢলের পানিতে বাঁধ ঝুঁকিতে ছিল। এরপর রোববার রাতে বৃষ্টি হয়েছে। ওই সময় বাঁধটি ভেঙে যায়। এরপর হাওরে পানি ঢুকতে থাকে। সোমবার সকালে পুরো হাওরের ধান তলিয়ে যায়।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে, সুনামগঞ্জে এবার প্রথম দফা পাহাড়ি ঢল নামে ৩০ মার্চ। প্রথম দফায় ঢলের ধাক্কা সামলানো গেলেও বৃহস্পতিবার রাত থেকে দ্বিতীয় দফায় ঢল নামতে শুরু করে। এতে জেলার সব নদ-নদীর পানি আবারও বাড়ছে। এ কারণে এসব হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধগুলোতেও পানির চাপ বাড়ছে। ঝুঁকিতে রয়েছে হাওরের ফসল। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি হাওরের ধান তলিয়ে গেছে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, সুরমা নদীর পানির উচ্চতা সোমবার দুপুর ১২টায় ছিল ৫ দশমিক ৯৬ মিটার। তবে সোমবার জেলায় ভারী বৃষ্টিপাত হয়নি।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের বরাত দিয়ে সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘আজ (সোমবার) থেকে আগামী তিন দিন উজান ও ভাটিতে বৃষ্টি কম হবে। উজানের বৃষ্টিই আমাদের জন্য সমস্যা বেশি। ১৫ দিন ধরে মাটির বাঁধগুলো ঢলের পানির ব্যাপক চাপ সামলাচ্ছে। মাটি নরম হয়ে গেছে। অনেক বাঁধে ফাটল ও ধস আছে। সেগুলোতে দিন–রাত কাজ হচ্ছে। আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করছি। দু-একটা দিন ধরে রাখতে পারলে মনে হয় বিপদ কেটে যাবে।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সুনামগঞ্জে এবার ২ লাখ ২২ হাজার ৮০৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ১৪ লাখ টন। রোববার পর্যন্ত ৫০ হাজার ৯৯৫ হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে। এ পর্যন্ত পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে গেছে ৫ হাজার ৫১০ হেক্টর জমির ধান।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন