বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, পাকা সড়কের পূর্ব পাশে চাতালের ওপর তাঁরা তৈরি করছেন ডালা, কুলা, চালুন, ঢালা, ঝুড়িসহ হরেক রকমের তৈজস। শ্যামল ও ওমর নামের দুজন শ্রমিক বলেন, ভোর থেকে শুরু করে মধ্যরাত পর্যন্ত তাঁরা কাজ করছেন। সামনে বৈশাখকে কেন্দ্র করে গ্রামবাংলায় শুরু হবে বিভিন্ন মেলা। মেলাগুলোতে পণ্য সরবরাহ করার জন্য রাতদিন পরিশ্রম করছেন তাঁরা। মেলায় আগত শিশুদের জন্য তৈরি করা হচ্ছে খেলনা, তৈজসপত্র।

কয়েকজন শ্রমিকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ শিল্পের ওপর নির্ভর করত অনেক পরিবার। কিন্তু বেত, বাঁশের মূল্যবৃদ্ধির কারণে বেড়েছে এসব পণ্যের দাম। অন্যদিকে প্লাস্টিকের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে এ পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে গেছেন অনেকে।

ওমর নামের এক শ্রমিক বলেন, তাঁরা বিভিন্ন হাটবাজার থেকে বাঁশ সংগ্রহ করেন। সেই বাঁশ দিয়ে নারী কারিগরেরা আসবাব তৈরি করেন। পরে সেসব আসবাব তাঁরা গ্রামগঞ্জে ঘুরে বিক্রি করেন। মাঝেমধ্যে বাইরে থেকে পাইকার আসেন। কিন্তু পাইকারেরা দাম কম দেন। এ কারণে বেশির ভাগ মাল তাঁরা গ্রামে গ্রামে ঘুরে বিক্রি করেন।

নারী কারিগর পুতুল ও সান্ত্বনা বলেন, তাঁরা সরকারি কোনো সহায়তা পাচ্ছেন না। যদি সরকারি সহায়তা পেতেন, তাহলে ভালো হতো।

স্থানীয় বাসিন্দা কামাল সরকার বলেন, এসব ভ্রাম্যমাণ কারিগরেরা প্রায় দুই বছর হলো এখানে আছেন। অনেক সময় বিক্রিবাট্টা কম থাকায় তাঁদের না খেয়ে থাকতে হয়। তাই তাঁদের জন্য সরকারি সহযোগিতা দরকার। এ ছাড়া তাঁরা স্থায়ীভাবে এখানে বসবাস করলে আবার এলাকার হারানো ঐতিহ্য আলোর মুখ দেখত।

চৌকিবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাসানুল করিম বলেন, এ শিল্প টিকিয়ে রাখতে উদ্যমী শ্রমিকদের প্রয়োজন আছে। তাই তাঁদের নানাভাবে সহযোগিতা করা হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন