বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

গ্রামের বাসিন্দারা জানান, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে সীমান্তে আন্তর্জাতিক ৯৪১/৯ মেইন পিলারের কাছে দুই দেশের মাদক চোরাচালানকারীরা মালামাল পার করছিল। এ সময় ভারতীয় ১৯২ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের অধীন সেউটি-২ ছাবরী ক্যাম্পের টহলরত বিএসএফের সদস্যরা তাদের ধাওয়া করেন। মাদক চোরাচালানকারীরা তাঁদের ধাওয়া খেয়ে বাংলাদেশের নাখারগঞ্জ এলাকায় ঢুকে পড়ে। বিএসএফের সদস্যরা তাদের পিছু নিয়ে ওই গ্রামের নিরীহ রফিকুল ইসলামের বাড়িতে প্রবেশ করেন। ঘরের দরজা খোলার জন্য হুংকার দিতে থাকেন। দরজা না খোলায় একপর্যায়ে রফিকুল ইসলামের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ঘরের দরজা ও টিনের বেড়া ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে পরিবারের সদস্যদের অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন। এ সময় প্রতিবাদ করলে ওই বিএসএফ সদস্যরা উত্তেজিত হয়ে রফিকুল ইসলামের স্ত্রী মজিরন, ছেলে জিয়াউর রহমান ও পুত্রবধূ ইতিকে ধাক্কা মারেন। তাঁদের চিৎকার-চেঁচামেচিতে গ্রামের লোকজন এগিয়ে এলে বিএসএফের সদস্যরা দ্রুত ভারতের ভূখণ্ডে চলে যান।

বিজিবির সঙ্গে পতাকা বৈঠকে বিএসএফ সদস্যরা জানান, চোরাচালানকারীদের ধাওয়া করতে গিয়ে ভুলবশত রাতের অন্ধকারে তাঁরা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন।

ঘটনাটি রাত ১১টার দিকে বিজিবিকে জানালে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিএসএফের কাছে কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়।

ভুক্তভোগী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমি বিএসএফকে বলেছি, মাদক চোরাচালানকারীরা আমার বাড়িতে প্রবেশ করেনি। তারপরও তারা চাপ প্রয়োগ করে আমার ঘরের বেড়ার টিনের গেট ভাঙচুর করেছে। পরিবারের সদস্যকে ধাক্কা মেরে অশালীন গালিগালাজ করেছে। পরে এলাকার লোকজন জড়ো হলে তারা দ্রুত ভারতে প্রবেশ করে।’

ওই সীমান্ত এলাকা লালমনিরহাট ১৫ বিজিবির ব্যাটালিয়নের অধীনে। ওই ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম তৌহিদুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, ‘ভুলবশত বিএসএফ বাংলাদেশে প্রবেশ করেছিল। আমরা তীব্র প্রতিবাদ জানালে বিএসএফ শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে ওই সীমান্তে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে তারা ভুল স্বীকার করেছে। এ ধরনের ঘটনা ঘটবে না বলে জানিয়েছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন