বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সেখানে বিএসএফ সদস্যরা রুহুলকে জিজ্ঞাসা করেন, তিনি গরু চোরাচালানকারী দলের সদস্য কি না। রুহুল অস্বীকার করলে বিএসএফ সদস্যরা স্বীকারোক্তি দিতে জোরাজুরি করতে থাকেন। একপর্যায়ে তাঁদের সঙ্গে আরও তিন বিএসএফ সদস্য যোগ দিয়ে রুহুলকে লাঠি দিয়ে বেধড়ক পেটাতে থাকেন। একপর্যায়ে রুহুল অচেতন হয়ে পড়লে তাঁকে সীমান্তে ফেলে চলে যান বিএসএফ সদস্যরা। সেখান থেকে কোনোমতে রুহুল কুলিক নদের ধারে চলে আসেন। বেলা দেড়টায় স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করেন। গতকাল রাত সোয়া আটটায় তাঁকে ঠাকুরগাঁও শহরের রোদেলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন স্বজনেরা।

রুহুল আমিন বলেন, সোমবার সকাল ৮টায় জগদল সীমান্তের ৩৭৪ নম্বর মেইন পিলারের ১ নম্বর সাব-পিলার এলাকায় তিনি হাল চাষ করতে যান। দুই ঘণ্টা পর সেখানে সাদাপোশাকে দুজন বিএসএফ সদস্য মাছ ধরতে আসেন।

রোদেলা জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক আহসান হাবিব বলেন, রুহুলকে সোমবার রাত সোয়া আটটায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাঁর গোটা শরীরে মারধরের চিহ্ন রয়েছে।

রানীশংকৈলের ধর্মগড় ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আনছারুল হক বলেন, ঘটনাটি ঘটিয়েছেন ভারতের কিষানগঞ্জ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের মূকেশ ক্যাম্পের সদস্যরা। রুহুল আমিনকে বিএসএফ ধরে নিয়ে যাওয়ার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক বিজিবির জগদল সীমান্ত ক্যাম্পে জানানো হয়।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কাঁঠালডাঙ্গী সীমান্ত ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার আবুল হোসেন বলেন, গতকাল বিকেল সাড়ে চারটায় সীমান্তের শূন্যরেখায় বিএসএফ ও বিজিবির কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিএসএফ প্রতিনিধি অভিযোগটি তদন্ত করে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন।

বিজিবি ঠাকুরগাঁও ৫০ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল এস এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সীমান্তে বাংলাদেশি কৃষককে নির্যাতনের ঘটনায় বিজিবির পক্ষ থেকে বিএসএফের কাছে জোর প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন