বিজ্ঞাপন

বিআইডব্লিউটিসি ঘাট সূত্রে জানা যায়, ঈদের দুদিন আগে বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌপথে দুটি ফেরিতে যাত্রীদের প্রচণ্ড চাপ, গরম ও হুড়োহুড়িতে পদদলিত হয়ে পাঁচজন মারা যান। এরপরই ফেরিতে যাত্রীসেবায় গতি আনা হয়। এ নৌপথে বর্তমানে ১৮টি ফেরির মধ্যে প্রয়োজন অনুযায়ী সব কটি চালু রাখা হয়। আজ ভোর থেকে যাত্রীদের চাপ বাড়তে থাকায় যানবাহনের তুলনায় যাত্রীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পারাপার করা হচ্ছে। ঘাটে পুলিশ, আনসার, ফায়ার সার্ভিসসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন।

সরেজমিনে বাংলাবাজার ফেরিঘাটে দেখা যায়, দূরপাল্লার গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও যাত্রীরা ইজিবাইক, মাহিন্দ্র থ্রি–হুইলারসহ ছোট ছোট যানবাহনে চড়ে ফেরিঘাটে আসছেন। উভয় ঘাট থেকে ছাড়া প্রতিটি ফেরিতে যানবাহনের তুলনায় যাত্রীর সংখ্যাই বেশি। প্রতিটি ফেরিতে দুই থেকে তিন হাজার যাত্রী বহন করা হচ্ছে। এতে উপেক্ষিত ছিল স্বাস্থ্যবিধি। বেশির ভাগ যাত্রীর মুখে নেই মাস্ক। করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি থাকলেও যাত্রীদের মধ্যে নেই সচেতনতা।

কয়েক যাত্রী বলছেন, লঞ্চ ও দূরপাল্লার পরিবহন বন্ধ থাকায় ফেরিঘাটে আসতে তাঁদের দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে। নির্ধারিত ভাড়ার বিপরীতে তিন থেকে চার গুণ অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে যাত্রীদের।

বরিশালের অগৈলঝাড়া থেকে আসা যাত্রী ইউনুস ফকির প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি ঢাকার মিরপুরে থাকি ছয় বছর ধরে। এবার ঈদের মতো আর কোনো ঈদে এত বেশি ভাড়া গুনতে হয়নি। বাস না থাকায় কয়েক দফায় ভেঙে ভেঙে এ ঘাটে এসেছি। আমার ৫০০ টাকার ভাড়া দিতে হয়েছে ১৫০০ টাকা। তবে ঘাটে এসেই ফেরি পেয়েছি। এইডাই আনন্দের।’

ঢাকা থেকে বরিশালগামী যাত্রী মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘ঈদের আগে গ্রামের বাড়ি যাইতে চাইছিলাম। কিন্তু কাজে আটকে যাওয়ায় ঢাকা ছাড়তে পারি নাই। তাই ঈদের পরে এখন কটা দিন বাড়িতে কাটাইয়া আবার ঢাকায় ফিরব। ঘাটে আসতে আমাদের তেমন সমস্যায় পড়তে হয়নি। তবে বাস বন্ধ থাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ভাড়া বেশি দিয়ে আসতে হয়েছে।’

গোপালগঞ্জ থেকে ঢাকামুখী যাত্রী সজীব মৃধা বলেন, ‘পরিবারের সঙ্গে ভালো ঈদ কাটাইছি। এখন ঢাকা যাইতাছি কামে। বাড়ি থেকে আসতে পথে পথে গাড়ি পাল্টাতে হচ্ছে। ভাড়া বেশি দিতে হচ্ছে এ ছাড়া কোনো সমস্যা নেই।’

খুলনা থেকে ঢাকামুখী শফিকুল ইসলাম নামের আরেক যাত্রী বলেন, ‘ঈদের পর যাওনের বেলা ঘাটে ভিড় থাহে। এবার ঘাটে আওনের মাত্রই ফেরি পাইছি। ফেরিতে মানুষের ভিড় থাকলেও ফেরি পাইছি এইডাই আল্লাহর কাছে শুকরিয়া।’

জানতে চাইলে বাংলাবাজার ঘাটের ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক (টিআই) মো. আশিকুর রহমান বলেন, ঘাটে উভয়মুখী যাত্রীদের ভিড়। এবার ব্যতিক্রম চিত্র ঘাটে। প্রতিবছর ঈদ শেষে যাত্রীরা ঢাকামুখী হয়। এবার ঢাকা থেকে এখনো আসছে মানুষ। প্রতিটি ফেরিতে তাঁদের ভিড় রয়েছে। আবার ঢাকায় ফিরছে কর্মমুখী মানুষ। ঘাটে কোনো জ্যাম নেই। মানুষ আসামাত্রই ফেরিতে পার হতে পারছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন