বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

দলীয় মনোনয়ন ফরম ক্রয় করেছিলেন নওমালা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ইসমাইল হোসেন ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য মো. মশিউর রহমান। তাঁরা বলেন, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের ঘোষণা অনুযায়ী, বিগত দিনে যাঁরা দলীয় সিদ্ধান্ত না মেনে নৌকা প্রতীকের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন, তাঁরা দলীয় মনোনয়ন পাবেন না। কিন্তু নওমালা ইউনিয়নের ক্ষেত্রে সেই নির্দেশ উপেক্ষা করে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বিদ্রোহী প্রার্থী কামাল হোসেন ও তাঁর স্ত্রী মাসুমা আক্তার এবং তাঁর বড় ভাই আতিকুর রহমানোর নাম উপজেলা ও জেলা আওয়ামী লীগের কর্তাব্যক্তিরা কেন্দ্রে সুপারিশ করেন।

ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘বিশ্বাস ছিল উপজেলা ও জেলা আওয়ামী লীগের কর্তাব্যক্তিদের টাকার বিনিময়ে কিনতে পারলেও আমাদের মানবতার মা শেখ হাসিনার কাছে আমরা ন্যায়বিচার পাব। কিন্তু বিদ্রোহী প্রার্থী ও তাঁর পরিবারের কাউকে মনোনয়ন না দেওয়ার জন্য তাঁর কাছে আবেদন করেও ন্যায়বিচার পাইনি।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, গলা ফাটিয়ে কেন্দ্রীয় নেতারা ঘোষণা দেন বিদ্রোহী প্রার্থীরা দলীয় মনোনয়ন পাবেন না। এরপর বিদ্রোহীরাই মনোনয়ন পান। আওয়ামী লীগ এখন কথায় আর কাজে মিল নেই দলে পরিণত হয়েছে।

নওমালা ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সভাপতি ও জেলা জজকোর্টের আইনজীবী নূরুল হক ওরফে বাচ্চু বলেন, ‘নওমালা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। সেখানে কামাল হোসেন নৌকা প্রতীক নিয়ে গত ইউপি নির্বাচনে হেরেছেন। পরে আবার বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে ১৩৫ ভোট পেয়েছেন। এরপরও কেন কামাল হোসেন ও তাঁর পরিবারের তিন ব্যক্তির নাম মনোনয়নের জন্য কেন্দ্রে সুপারিশ করে পাঠাতে হবে? আর তাঁরাই মনোনয়ন পাবেন। তাহলে আমরা আওয়ামী লীগ করি কেন?’

দলীয় ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ২২ মার্চ ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পান নওমালা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. কামাল হোসেন বিশ্বাস। ওই নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মো. শাহজাদা হাওলাদারের কাছে হেরে যান। এরপর কামাল হোসেন ২০১৯ সালে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন চান। মনোনয়ন না পেয়ে তিনি আনারস প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেন। ওই নির্বাচনে তিনি ১৩৫ ভোট পান।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মোতালেব হাওলাদার একই পরিবারের তিন ব্যক্তির নাম দলীয় মনোনয়নের জন্য সুপারিশ করার কথা স্বীকার করলেও এ বিষয়ে তিনি আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এ বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী আলমগীর হোসেন বলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষর করে তাঁদের কাছে নাম পাঠিয়েছেন। তাঁরা (জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক) প্রতিস্বাক্ষর করে কেন্দ্রে পাঠিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, ‘যতটুকু জেনেছি কামাল হোসেন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেও দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছেন।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখানে টাকার বিনিময়ে মনোনয়নের জন্য নাম পাঠানোর অভিযোগ সত্য না।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন