বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসী সূত্র জানায়, বাউফল উপজেলার নওমালা ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. কামাল হোসেন বিশ্বাসের সঙ্গে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ও বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান মো. শাহজাদা হাওলাদারের বিরোধ চলছিল। ওই বিরোধের জের ধরে শনিবার রাত ১০টার দিকে দুই পক্ষের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে দুই পক্ষের কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে মো. সজীব (২০) নামের এক কর্মী গুলিবিদ্ধ হন। সজীব শাহজাদা হাওলাদারের কর্মী। এ নিয়ে গতকাল রাতে প্রথম আলোর অনলাইন সংস্করণে  ‘ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আ.লীগের দুপক্ষে সংঘর্ষ, আহত ১০’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

সজীবকে শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে উদ্ধার করে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে পুলিশ। সেখানে জরুরি বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁকে রাতেই বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। আজ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ও সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান জি এম নাজিমুল হক অস্ত্রোপচার করে সজীবের শরীর থেকে একটি গুলি বের করেন।

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান জি এম নাজিমুল হক বলেন, ওই তরুণের (সজীবের) ঘাড়ের বাঁ অংশ থেকে গুলি বের করা হয়েছে। তবে কিসের গুলি তা পরীক্ষা না করে বলা যাবে না। ওই তরুণ এখন শঙ্কামুক্ত।

সংঘর্ষে আহত মো. সজীব বলেন, সংঘর্ষের এক পর্যায়ে পুলিশের উপস্থিতিতে কামাল হোসেন বিশ্বাসের সমর্থক শাহাবুদ্দিন আকনের (৪৬) ছোড়া গুলিতে তিনি গুলিবিদ্ধ হন। তবে শাহাবুদ্দিন আকন এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি এ সম্পর্কে কিছুই জানি না। ঘটনার সময় আমি আমার বাসায় ছিলাম।’

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন বলেন, পুলিশের উপস্থিতিতেই ঘটনা ঘটেছে। দুই রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়েছে। ওই সময় স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। প্রশাসন কঠোর অবস্থানে না থাকলে যেকোনো সময় আবার সংঘর্ষ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন গতকাল রাতে পুলিশের উপস্থিতিতে গুলি হওয়ার ঘটনা অস্বীকার করেছিলেন। তবে আজকে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘গুলি উদ্ধারের খবর পেয়েছি। এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

দ্বিতীয় ধাপে এ উপজেলার নওমালা ও সূর্য্যমনি ইউপিতে নির্বাচন হচ্ছে। আগামী ১১ নভেম্বর এই দুই ইউপিতে ভোট নেওয়া হবে। দুটি ইউনিয়নেই আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী রয়েছেন। এসব ইউনিয়নে বিএনপি ও জাতীয় পার্টির কোনো প্রার্থী নেই।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন