পারিবারিক সূত্র ও এলাকাবাসী জানায়, বাকেরগঞ্জ উপজেলার রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের কাঁঠালিয়া গ্রামের মৃত হানিফ হাওলাদারের স্ত্রী নাজনীন। তিন সন্তানের মধ্যে বড় ছেলে উজ্জ্বল হাওলাদারের স্ত্রীকে নিয়ে গ্রামেই থাকতেন তিনি। উজ্জ্বল ও তাঁর ছোট ভাই রাজু হাওলাদার চাকরির সুবাদে ঢাকায় থাকেন। দুই ছেলে উজ্জ্বল ও রাজু ঈদে বাড়িতে আসেন। গত মঙ্গলবার আবার কর্মস্থল ঢাকায় ফিরে যান তাঁরা।

নিহত নাজনীনের ভাশুর কালাম হাওলাদার বলেন, গতকাল রাত ১০টা নাগাদ তাঁকে নাজনীনের বড় ছেলে উজ্জ্বল ফোন করে জানান, মাকে একাধিকবার ফোন দিয়েও পাচ্ছেন না। চাচাকে ঘরে গিয়ে মায়ের খোঁজ নিতে বলেন উজ্জ্বল। ভাতিজার কথা অনুযায়ী নাজনীনের খোঁজ নিতে তাঁদের ঘরে যান কালাম। গিয়ে দেখেন, ঘরের সামনের দরজা বন্ধ, কিন্তু পেছনের দরজা খোলা। পেছনের খোলা দরজা দিয়ে ঘরে ঢুকেই খাটের পাশে মশারিতে প্যাঁচানো রক্তাক্ত অবস্থায় নাজনীনের লাশ দেখতে পান। কালামের ডাকচিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। পরে তিনি বাকেরগঞ্জ থানায় খবর দেন। প্রতিবেশীরা জানান, বউ ও শাশুড়ির মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন ছিল। এ নিয়ে কয়েকবার সালিস-বৈঠকও হয়েছে।

বাকেরগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুদীপ্ত সরকার আজ বৃহস্পতিবার সকালে প্রথম আলোকে বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে লাবণ্য তাঁর শাশুড়িকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি একাই এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। রান্নার কাজে ব্যবহৃত ছুরি দিয়ে গলা কেটে ওই নারীকে ঘুমন্ত অবস্থায় হত্যা করা হয়েছে। পারিবারিক কলহের জের ধরেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। নাজনীন বেগমের লাশ আজ সকালে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, এ ঘটনায় নিহত নারীর ছেলে হত্যা মামলা করেছেন। এই মামলায় লাবণ্যকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তাঁকে আদালতে তোলার প্রস্তুতি চলেছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন