বাগমারায় বাঁধ ভেঙে চার এলাকা প্লাবিত

বিজ্ঞাপন
default-image

রাজশাহীর বাগমারায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে চারটি এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পানির স্রোতে বিল ও পুকুরের প্রায় আট কোটি টাকার মাছ ভেসে গেছে। পানিতে তলিয়ে গেছে পানবরজ, ভুট্টা, আউশ খেতসহ বাড়িঘর। আরও নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার ভোরে উপজেলার লাউবাড়িয়া এলাকায় পাউবোর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে যায়। এর আগে সেখানে থাকা কালভার্ট দিয়ে পানি লিকরাবিলে প্রবেশ করে। ভোরে বন্যার পানির তোড়ে কালভার্টটি ভেঙে যায়। সেই সঙ্গে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধও ভেঙে যায়। সেখান দিয়ে পানি উপজেলার বিলসুতি বিল হয়ে পূর্ব নাককাটি বিলে প্রবেশ করে। এ ছাড়া বেলা ১১টার দিকে জোলাপাড়া বাঁধ ও ঢেকরতলায় বাঁধ ভেঙে গিয়ে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে উপজেলার লাউবাড়িয়া, জাঙ্গালপাড়া, খিদ্দিখাপুর, জোলাপাড়া এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকার অধিকাংশ বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। এ ছাড়া এসব এলাকার পানরবজসহ বিভিন্ন ফসলের খেত তলিয়ে যাওয়া ছাড়াও তিনটি বিলে চাষ করা প্রায় আট কোটি টাকার মাছ পানিতে ভেসে গেছে। এ ছাড়া ওই সব এলাকার কমপক্ষে ৩৮টি পুকুরের মাছও ভেসে গেছে বলে মৎস্যচাষিরা জানিয়েছেন।

আজ সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সরেজমিনে দেখা যায়, ভাঙা বাঁধ দিয়ে প্রবল বেগে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। লাউবাড়িয়া ও খিদ্দিখাপুর গ্রামের লোকজন তাঁদের বাড়ির মালামাল অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন। চাষিরা তাঁদের ডুবে যাওয়া পানবরজ থেকে পান সংগ্রহ করছেন। অনেকে বাড়িঘর রক্ষার চেষ্টায় কাজ করে যাচ্ছেন। অনেকে খেতে থাকা পাটগাছ কাটতে ও সেগুলো রক্ষার চেষ্টা করছেন।

লাউবাড়িয়া গ্রামের আবু বকর সিদ্দিক, মোজাম্মেল হক ও দেলশাদ আলী জানান, বাঁধ ভেঙে যাওয়ার কারণে তাঁদের বাড়িঘর ছাড়াও পানবরজ ও পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। পানির তোড়ে ঢেকরতলা ও জাঙ্গালপাড়া এলাকার তিনটি বাঁধ ভেঙে তলিয়ে গেছে বন্যার পানিতে। সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও কৃষি কর্মকর্তা এসব এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় তাঁরা দ্বীপপুর ও কাচারীকোয়ালীপাড়া এলাকার দুটি বাঁধ কেটে পানি অপসারণ করেন। মাছ চাষের জন্য প্রভাবশালীরা এই বাঁধ নির্মাণ করেছিলেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাজিবুর রহমান জানান, বাঁধ ভেঙে গিয়ে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকার পানবরজ, আউশ খেতসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষতি হয়েছে।

ইউএনও শরিফ আহম্মেদ বলেন, হঠাৎ করে পানি বেড়ে যাওয়া ও বাঁধ ভেঙে যাওয়ার কারণে কিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক দিকে নজর রাখা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন