বিজ্ঞাপন

খলিলুর রহমান বলেন, ‘ঘরে পাক করার অবস্থা এখনো নাই। পাশের বাড়ি চাইরডা রাইন্দে খাই। আগে চিড়ে, গুড় পাইছি। কিন্তু এই প্রত্থম কয়টা চাইল-ডাইল পাইলাম। কয়ডা রাইন্দে খাবানি। আল্লাহ আপনাগো ভালো করুক।’ তাঁর প্রতিবেশী আবদুল্লাহ খলিফা (৭০) বলেন, ‘মোগো ঘরটা একদম ভাইঙ্গা কাইত। কীভাবে ঠিক করব? আপনাগো এই চাইল কয়ডা ফুটায় কয়ডা দিন খাতি পাব।’

default-image

ভোলা নদীর পাড়ে মূল বাঁধের বাইরে ছোট একটি বাঁধ ছিল। তার ভেতরে বসবাস প্রায় তিন গ্রামের মানুষের। সেদিনের উঁচু জোয়ারে মূল বাঁধের বাইরে থাকা সব ঘরবাড়িই ডুবে যায়। মানুষ এখনো দিশেহারা। ভোলা নদীর পাড়ে বসবাসকারী সুরাতু নেসা চোখে দেখেন না ঠিকমতো। বুধবার দুপুরে অনেক কষ্ট করে এসেছিলেন খুড়িয়াখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে। সেখানে চাল, ডাল, আলু, পেঁয়াজ, মরিচের প্যাকেট হাতে পেয়ে চোখ ছলছল করছিল তাঁর। বলেন, ‘ছেলেরা খুলনায় থাহে, কাজ করে। আমি একটা নাতিরে লইয়ে একা থাহি। এই নিয়ে এখন চাইডা রাইন্দে খাব।’

এর আগে বাগেরহাট সদরের ভৈরব নদের তীরের মাঝিডাঙ্গা এলাকার আশ্রয়ণ প্রকল্প এবং পাশের মুনিগঞ্জ সেতুর নিচের ১০০ পরিবারকে খাদ্যসহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়। জোয়ারে এখানকার সব বাড়ি তলিয়ে গিয়েছিল ৫-৭ ফুট পানির নিচে। খাবারের প্যাকেট পেয়ে ওই গ্রামের সাহিদা বেগম কেঁদে ফেলেন। বলেন, ‘দুই দিন হইছে ভাত খাই না। গতকাইলতে কয়ডা চিড়া খাইয়ে আছি। সকালেও চিড়া আর চিনি খাইছি। বউ আর ছোয়ালডারে তাগো শ্বশুরবাড়ি পাঠায় দিছি। আমি খাইয়ে না খাইয়ে পড়ে আছি। আপনাদের এই ডাইল-চাইল কয়ডা দিয়ে ফুটোয়ে খাতি পারবোনে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন