জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই নিয়ে বাগেরহাটে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ২ হাজার ৩৮৭। এর মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৬০০ জন। আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৬৩ জন।

গত ৩০ মে থেকে মোংলা পোর্ট পৌরসভায় বিধিনিষেধ চলছে। তবে কঠোর বিধিনিষেধ ও স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে সাধারণ মানুষের চলাফেরা আগের থেকে বেড়েছে।

এই সময়ে জেলায় সর্বোচ্চ সংক্রমণ ঝুঁকিতে থাকা মোংলা উপজেলায় ৩০টি নমুনা পরীক্ষায় ১৪ জনের করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ৪৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ। মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কমলেশ মজুমদার বলেন, গত ৩০ মে থেকে মোংলা পোর্ট পৌরসভায় বিধিনিষেধ চলছে। তবে কঠোর বিধিনিষেধ ও স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে সাধারণ মানুষের চলাফেরা আগের থেকে বেড়েছে। হাটবাজারে মানুষের উপচে পড়া ভিড়। প্রশাসনের আরোপ করা কঠোর বিধিনিষেধ কেউ মানছেন না। নৌকাতে গাদাগাদি করে যাত্রী পারাপার চলছে। ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। সংক্রমণ পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়াতে মোংলা উপজেলায় তৃতীয় দফায় আজ থেকে ২৩ জুন পর্যন্ত আরও সাত দিনের বিধিনিষেধ আরোপ করেছে প্রশাসন।

সিভিল সার্জন কে এম হ‌ুমায়ূন কবির বলেন, বাগেরহাটে দ্বিতীয় ঢেউয়ে গত মার্চ মাস থেকে করোনা সংক্রমণ আবার বাড়তে শুরু করে। চিকিৎসার জন্য ৫০ শয্যার একটি করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল প্রস্তুত রাখা আছে। সেখানে কেন্দ্রীয় অক্সিজেনের পর্যাপ্ত সরবরাহ রাখা হয়েছে। জেলার সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে মোংলা উপজেলা। সেখানে প্রতিদিন করোনা রোগী বাড়ছে। নমুনা পরীক্ষায় শনাক্তের হার ৬০ থেকে ৭০ শতাংশের মধ্যে ওঠানামা করছে, যা উদ্বেগজনক। এ ছাড়া মোংলার সীমান্তবর্তী শরণখোলা ও মোরেলগঞ্জ উপজেলা দুটি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। সেখানে যাতে সংক্রমণ বিস্তার লাভ না করতে পারে, এ জন্য প্রশাসন ব্যবস্থা নিয়েছে। করোনার সংক্রমণ রোধে যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কথা, তা কেউ মানছে না।