বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে জেলায় ৪ হাজার ২৬৭টি মাছ ও কাঁকড়ার ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে চিংড়ি ও অনান্য মাছের ঘের ৩ হাজার ৯০৪টি। আর কাঁকড়া-কুঁচিয়ার ঘের ৩৬৫টি।

জেলা মৎস্য বিভাগ জানায়, ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে জেলায় ৪ হাজার ২৬৭টি মাছ ও কাঁকড়ার ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে চিংড়ি ও অনান্য মাছের ঘের ৩ হাজার ৯০৪টি। আর কাঁকড়া-কুঁচিয়ার ঘের ৩৬৫টি। এর বাইরে জোয়ারের পানিতে বিভিন্ন উপজেলায় ৫৬১টি পুকুর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে জেলার মৎস্য চাষিদের ৬ কোটি ৯৩ লাখ ৯৫ হাজার টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

চিংড়ি, কার্পসহ অন্যান্য প্রজাতির মাছ চাষ এখানকার মানুষের প্রধান কাজ। লবণাক্ততার কারণে ধানের ফলন কম হওয়ায় গত কয়েক দশকে বাগেরহাটের মানুষ ঝুঁকেছে মাছ চাষে। করোনা পরিস্থিতির মধ্যে চিংড়ি, কাঁকড়া ও কুঁচিয়া রপ্তানি কমে যাওয়ায় এমনিতেই বিপাকে পড়েছিলেন জেলার মৎস্যচাষিরা। তার ওপর ইয়াসের কারণে আবারও ক্ষতির মুখে পড়লেন তাঁরা।

আশপাশে অন্তত ৫০টি ঘের ডুবেছে। এক সপ্তাহ হয়নি ঘেরে চিংড়ির রেণু ছেড়ে ছিলেন। সব শেষ হয়ে গেছে। এ ধাক্কা কীভাবে সামলাবেন?
জাহিদুল ইসলাম, মৎস্যচাষি

রামপাল উপজেলার তালবুনিয়া গ্রামের মো. সোহানুর রহমান বলেন, জোয়ারের পানিতে মাছের ঘের ও বসতবাড়ি সব ডুবেছে। কয়েক দিন আগে ঘেরে কয়েক লাখ টাকার বাগদা চিংড়ির রেণু ছেড়েছিলেন তিনি। জোয়ারের পানিতে সব বের হয়ে গেছে।

সদর উপজেলার বেমর্তা ইউনিয়নের ভদ্রপাড়া গ্রামের বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম বলেন, আশপাশে অন্তত ৫০টি ঘের ডুবেছে। এক সপ্তাহ হয়নি ঘেরে চিংড়ির রেণু ছেড়ে ছিলেন। সব শেষ হয়ে গেছে। এ ধাক্কা কীভাবে সামলাবেন?

জেলা চিংড়ি চাষি সমিতির সভাপতি ফকির মহিতুল ইসলাম সুমন বলেন, প্রতিটি দুর্যোগে বাগেরহাটের মৎস্যচাষিদের অনেক ক্ষতি হয়। সর্বোচ্চ চেষ্টার পরও পাঁচ-সাত ফুট পানি উঠলে ঘেরগুলো আর বাঁচানো যায় না। তাঁদের চাওয়া সরকার মৎস্য বিমার ব্যবস্থা করে দিক, যার মাধ্যমে তাঁরা ক্ষতিপূরণ পাবেন।

মাঠে পাকা ধান না থাকায় এবার ক্ষতি কম হয়েছে। তবে সবজি, পান, কলা ও আউশ বীজতলা দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গাছের গোড়ায় পানি জমে থাকতে না পারলে বেশি ক্ষতি হবে না।
মো. শফিকুল ইসলাম, উপপরিচালক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বাগেরহাট কার্যালয়ের

ক্ষয়ক্ষতির একটি প্রাথমিক তালিকা করে সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠানো হয়েছে বলে জানান মৎস্য বিভাগের বাগেরহাট কার্যালয়ের বিভাগীয় মৎস্য কর্মকর্তা (ডিএফও) এ এস এম রাসেল। তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যচাষিরা যাতে সহায়তা পান, সে জন্য সরকারের কাছে আবেদন করা হবে।

১৬৫ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত

ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে বৃষ্টির পানি জমে ও অতিরিক্ত জোয়ারে প্লাবিত হয়ে বাগেরহাটের বিভিন্ন উপজেলার সবজি, মরিচ, আউশ বীজতলা, কলা ও পানের বরজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষি বিভাগের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, জেলায় মোট ১৬৫ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১০ হেক্টর জামির মরিচ ও ১৩৬ হেক্টর জমির সবজি সম্পূর্ণ নষ্ট হওয়ার শঙ্কা আছে।

সবজিজাতীয় গাছের গোড়ায় পানি জমে গেলে তা মরে যাওয়ার শঙ্কাই বেশি বলে জানান কৃষি কর্মকর্তারা। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বাগেরহাট কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, মাঠে পাকা ধান না থাকায় এবার ক্ষতি কম হয়েছে। তবে সবজি, পান, কলা ও আউশ বীজতলা দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গাছের গোড়ায় পানি জমে থাকতে না পারলে বেশি ক্ষতি হবে না।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন