default-image

বাগেরহাট সদর উপজেলার ডেমা এলাকায় দুই পক্ষের সংঘাতে নারী ও শিশুসহ অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। এঁদের মধ্যে কমপক্ষে ৯ জনের শরীরে বন্দুকের ছররা (শটগান) গুলির ক্ষত রয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার ডেমা ইউনিয়নের ডেমা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। আহত ব্যক্তিরা সবাই ডেমা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য (মেম্বর) হিসেবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা দুই প্রার্থীর সমর্থক ও স্বজন।

ঘটনার সময় ইউপি সদস্য সজীব তরফদারের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। ঘটনার পর পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে নেয়। পুনরায় সংঘাত এড়াতে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে এঘটনায় রাত ১টা পর্যন্ত কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।

আহত ব্যক্তিদের মধ্যে ডেমার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বর প্রার্থী অহেদ মোস্তফা বাপ্পীর সমর্থক ১০ জন বাগেরহাট সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ওই ওয়ার্ডের বর্তমান মেম্বর মো. সজীব তরফদারের মা সখিনা বেগম (৬৬) গুলিবিদ্ধ অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁদের আরও কয়েকজন আহত বলে দাবি সজীবের পরিবারের।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, রাত সাড়ে ১০টার দিকে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এর আগে সদস্য প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা মোস্তফা বাপ্পী এলাকায় মিছিল করেন। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় বেশ কয়েকটি গুলির শব্দ শোনা যায়। এসময় অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। উভয় পক্ষই বলছে, তারা গুলি ছোড়েনি, তাদের ওপর গুলি চালানো হয়েছে।

আহত ব্যক্তিদের মধ্যে রুহুল আমিন গাজী, নওশের শেখ, মাহফুজ শেখ, রবিউল ইসলাম, অনিক শেখ, মিকাইল হো‌সেন, হেলাল গাজী, মিলন শেখ, ইমাম গাজীসহ মোস্তফা বাপ্পীর পক্ষের ১০ জনকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের ভাষ্য, নির্বাচনী প্রচারকালে তাঁদের ওপর সজীব মেম্বারের লোকেরা অতর্কিতে গুলি চালায়। সজীব নিজেও গুলি করেন।

default-image

রাত ১২টায় বাগেরহাট সদর হাসপাতালে দাঁড়িয়ে মোস্তফা বাপ্পি বলেন, ‘আমি মেম্বর পদে নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছি। ঘটনার সময় সমর্থক নিয়ে আমি এলাকায় দোয়া চাইতে বের হয়েছিলাম। এ সময় বর্তমার মেম্বার সজীবের বাড়ির সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় তাঁর (সজীব) নেতৃত্বে বিএনপির গুন্ডারা আমাদের ওপর অতর্কিত গুলি চালায়।’

সজীব তরফদারের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তাঁর স্ত্রী নাইমা ফারহানা ফোন ধরেন। ঘটনা সম্পর্কে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, রাতে ওই সময় বাড়ির সামনের মোড়ে ‘ডিপো ঘরে’ (মাছ কেনাবেচার প্রতিষ্ঠান) বসে কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলছিলেন সজীব। তখন বাপ্পী ও বনি আমিনের নেতৃত্বে একটি নির্বাচনী মিছিল সেখানে আসে। মিছিলে অংশ নেওয়া সবার হাতে লাঠি ও দা ছিল। এ দেখে সজীব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে বাড়ি আসার প্রস্তুতি নেন। মিছিলটা কিছুটা এগিয়ে সামনের দিকে চলে গেলে সজীব ও তাঁর ভাই বাড়ির পথ ধরেন। এ সময় সজীবের চাচা মকবুল মাস্টার (সাবেক চেয়ারম্যান) বাড়ি থেকে তাঁর বন্দুক নিয়ে বের হন। হট্টগোলের খবর পেয়ে তিনি (নাইমা), তাঁর এক জা ও সজীবের মা মিলে সামনে এগিয়ে আসেন। তখন মকবুল মাস্টার সজীবের বড় ভাইয়ের বুকে বন্দুক ধরেন। এরপর তিনি বন্দুক নামিয়ে গুলি করলে সজীবের মায়ের হাঁটুসহ শরীরে কয়েকটি গুলি লাগে। গুলিতে তাঁর হাঁটুর বাটি ভেঙে গেছে। তাঁকে খুলনায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে, অবস্থা আশঙ্কাজনক।

আহত ব্যক্তিদের মধ্যে একটি শিশু আছে, যাকে লাঠি জাতীয় কিছু দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। বাকি ৯ জনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছিলে গেছে বা বুলেট বিদ্ধ হয়েছে এমন। খুব সম্ভবত শটগানের গুলি।
মো. রবিউল ইসলাম, বাগেরহাট সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক

বাগেরহাট সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মো. রবিউল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘রাত ১১টা থেকে আমাদের এখানে মারামারির কিছু রোগী আসতে শুরু করে। ১২টা পর্যন্ত মোট ১০ জন এসেছেন। তাঁদের চিকিৎসা দিয়ে ভর্তি নেওয়া হয়েছে। যাঁদের কারও অবস্থাই তেমন গুরুতর নয়। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে একটি শিশু আছে, যাকে লাঠি জাতীয় কিছু দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। বাকি ৯ জনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছিলে গেছে বা বুলেট বিদ্ধ হয়েছে এমন। খুব সম্ভবত শটগানের গুলি।’

বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) মীর মো. শাফিন মাহমুদ বলেন, রাত সাড়ে ১০টার দিকে স্থানীয় আধিপত্যকে কেন্দ্র করে ডেমা গ্রামে দুই পক্ষে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে কিছু আহতের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে যায়। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন