default-image

করোনাভাইরাস নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যেই বাগেরহাট-৪ (মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা) আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে। আজ শনিবার সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া ভোট চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করা হয়। কেন্দ্রে কেন্দ্রে আনসার সদস্যদের দেখা যায় ভোটারদের এ ব্যাপারে সহায়তা করতে।

দুপুর ১২টা পর্যন্ত পাঁচটি কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, হাত ধুয়ে ভোটাররা লাইন ধরে ভোট দিচ্ছেন। কেন্দ্রের প্রবেশমুখে লাগানো হয়েছে করোনাভাইরাস বিষয়ে সচেতনতামূলক ব্যানার। ভোটদান কক্ষে ঢুকে নম্বর মিলিয়ে ভোট দিলেও গোপন কক্ষে ঢুকে ব্যালট পেপারে সিল দিতে অনীহা ছিল অধিকাংশ ভোটারের। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার অনুরোধের পরও অনেকে জোর করে টেবিলে প্রকাশ্যে ব্যালটে সিল দিয়েছেন।

মোরেলগঞ্জের কচুবুনিয়া রহমতিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সকাল ১০টার পর থেকে প্রায় ২০ মিনিট অবস্থানকালে অধিকাংশকে প্রকাশ্যে ভোট দিতে দেখা যায়। এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভোটার বলেন, ‘বুথে ঢুকে খালি খালি বিপদ বাঁধিয়ে লাভ আছে? যার হওয়ার সে-ই হবে। নিজের পয়সায় চাল কিনে খাই। কেন নিজের বিপদ ডেকে আনব?’

দৈবজ্ঞহাটির একটি কেন্দ্রে ভোট দেওয়ার সময় এক ভোটারকে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা বারবার অনুরোধ করেন গোপন পক্ষে গিয়ে ভোট দেওয়ার জন্য। কিন্তু ৭০ বছর বয়সী ওই বৃদ্ধ ভোট দিয়ে কেন্দ্রে থাকা আওয়ামী লীগের এজেন্টদের দেখাতে যান। জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কোনো গোপন-টোপন নেই বাবা। কোনো প্রার্থী আছে নাকি? ফালতু একটা ভোট।’

মিত্রডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত নারী-পুরুষ মিলিয়ে ৩৬৭ জন ভোট দেন। এই কেন্দ্রে মোট ভোটার ১ হাজার ৩৮৪ জন। কেন্দ্রের একটি কক্ষে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর এজেন্ট সোহাগ শেখ বলেন, ভোটার উপস্থিতি ভালো। ৮৫-৯০ ভাগ ভোট পড়বে বলে আশা তাঁর। সেখানেও ভোটাররা প্রকাশ্যে ভোট দিচ্ছে। ছবি তুলে গেলে বাধা দেওয়া হয়।

কচুবুনিয়ায় কেন্দ্রের ভেতর ভোটার উপস্থিতি ছিল মাত্র ৩ জন। কেন্দ্রে প্রবেশের সময় আশপাশ থেকে আওয়ামী লীগের ব্যাচ লাগানো কয়েকজনকে বলতে শোনা যায়, ‘সাংবাদিক আসছে, ভোটারদের লাইন কই?’ এর কিছু পরই বাইরে ভিড় দেখ যায়। কেন্দ্রে ভেতরেও ভোটার উপস্থিতি বেড়ে যায় সবগুলো বুথে।

ওই কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক সুবল কৃষ্ণ সাহা বলেন, ‘আমরা সব ভোটারকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট দিতে আসতে উৎসাহিত করছি। আজও বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে আমরা ভোটারদের নিয়ে আসছি। তাই উপস্থিতিও ভালো। এই কেন্দ্রে ৬টি বুথে মোট ভোটার ৩ হাজার ২১ জন। প্রথম ঘণ্টায় ভোট পড়ে ১৪৪টি।’

বাগেরহাট-৪ উপনির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ইউনুস আলী বলেন, সকাল ৯টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত ২০ থেকে ২৫ শতাংশ ভোট পড়েছে। ভোটার উপস্থিতিও মোটামুটি ভালো। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছে। নির্বাচনী এলাকার কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। প্রার্থীদের পক্ষ থেকেও কোনো অভিযোগ নেই। ভোটারদের গোপন কক্ষে না গিয়ে প্রকাশ্যেই ভোট দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ভোট দিতেই তো গোপন কক্ষ করা হয়েছে। আমি নিজেও অনেকগুলো কেন্দ্র ঘুরেছি। কোথাও এমন কিছু চোখে পড়েনি। কেউ অভিযোগও করেনি।’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0