default-image

রাজশাহীর বাঘায় দুই সন্তানকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে এক দিনমজুরের স্ত্রীকে (২৮) গণধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল সোমবার দিবাগত রাতের এ ঘটনায় আজ মঙ্গলবার বাঘা থানায় মামলা হয়েছে। পুলিশ মামলার এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই আসামি পুলিশের কাছে ঘটনা ও তাতে তাঁর জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁকে আদালতে সোপর্দ করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ডের জন্য আবেদন করা হয়েছে।

মামলার তিন আসামি হচ্ছে উপজেলার কলিগ্রামের রুবান মালিথার ছেলে সুরুজ আলী (৩২), এলাহি বক্সের ছেলে ঝন্টু আলী (৩৩) এবং গুলুমালের ছেলে রুজদার আলী (৩৫)। তাঁদের মধ্যে সুরুজ আলীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। ভুক্তভোগী গৃহবধূ বাদী হয়ে বাঘা থানায় এই তিনজনকে আসামি করে মামলা করেছেন। এজাহারে ওই গৃহবধূ জানিয়েছেন, তাঁর স্বামী ধান কাটার শ্রমিক হিসেবে এলাকার বাইরে রয়েছেন। এই সুযোগে আসামিরা এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। তাঁদের বাড়িটি ইটের তৈরি হলেও এখনো প্লাস্টার করা হয়নি। ভালো দরজাও লাগানো হয়নি। টিনের দরজা ছিল। সেটি ভেঙেই আসামিরা ভেতরে প্রবেশ করে তাঁর দুই সন্তানকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাঁকে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন।

পুলিশ মামলার এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই আসামি পুলিশের কাছে ঘটনা ও তাতে তাঁর জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।

এজাহারে আরও বলা হয়, সোমবার রাতে ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টি হচ্ছিল। রাত আনুমানিক ১২টার দিকে বাড়ির প্রবেশ গেটের টিনের দরজা ভেঙে আসামিরা ভেতরে প্রবেশ করেন। গৃহবধূ যাতে চিৎকার না করতে পারেন, এ জন্য তাঁরা গৃহবধূর গলায় দেশীয় অস্ত্র ধরে প্রাণনাশের ভয় দেখান। তাঁর সঙ্গে দুই সন্তান ঘুমিয়ে ছিল। তাদেরও একইভাবে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে আসামিরা গৃহবধূকে পাশের কক্ষে নিয়ে যান। গলায় অস্ত্র ধরে থাকার কারণে মা ও সন্তানেরা কেউ চিৎকার করতে পারেননি।

বিজ্ঞাপন

ভুক্তভোগী ওই নারী পুলিশকে জানিয়েছেন, ধর্ষণ শেষে বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য হুমকি দিয়ে আসামিরা চলে যান। তবে একই গ্রামের লোক বলে তিনি তাঁদের চিনতে পেরেছেন।

জানতে চাইলে বাঘা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক তদন্তে তাঁরা ঘটনার সত্যতা পেয়েছেন। গ্রেপ্তার আসামি সুরুজও তাঁদের কাছে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন। তাঁকে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার আবেদন জানিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ওসি বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতারও অভিযোগ রয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন