default-image

২১ জানুয়ারি বিকেল। কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর পৌরসভা নির্বাচনের বিএনপির মেয়র পদপ্রার্থী এহেসান কুফিয়া প্রচারণার কাজে বাইরে বের হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এমন সময় একদল দুর্বৃত্ত তাঁর বাড়িতে হামলা চালায়। বাড়ির প্রধান ফটকের সামনে ঘটানো হয় বোমা বিস্ফোরণ। নিজেকে রক্ষায় ওই সময় বাসায় দরজা বন্ধ করে ছিলেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী। সেই থেকে তিনি আর বাধাহীনভাবে প্রচারণায় অংশ নিতে পারেননি। বর্তমানে তাঁর নির্বাচন অনেকটা ঘরবন্দী হয়ে আছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাজিতপুর পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে এখন পর্যন্ত ধানের শীষের কর্মী-সমর্থকেরা ছোট–বড় ২২টি হামলার শিকার হয়েছেন। এর বিপরীতে মামলা হয়েছে একটি। উল্টো চিত্র আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীর প্রচারণার। নৌকার প্রার্থী আনোয়ার হোসেন ব্যস্ত সময় পার করছেন।

গত মঙ্গলবার দুপুরে এহেসান কুফিয়া মুঠোফোনে বলেন, ‘কোথাও বেরোচ্ছি না। বাইরে বের হলেই বাধা। ঝামেলা এড়াতে ঘরেই আছি।’

বাজিতপুর ১৫১ বছর আগের পৌরসভা। আদি এই পৌরসভার নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী তিনজন। তাঁদের মধ্যে ধানের শীষের এহেসান কুফিয়া আগে দুবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে একবার জয় পান। তিনি পৌর বিএনপির আহ্বায়ক। তাঁর বাবা আবদুল্লাহ বুরহান কুফিয়া এই পৌরসভার চারবারের চেয়ারম্যান ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

নৌকার প্রার্থী আনোয়ার হোসেন বর্তমান মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। তাঁর আপন ভাই আফজাল হোসেন কিশোরগঞ্জ-৫ (বাজিতপুর-নিকলী) আসনের টানা তিনবারের সাংসদ ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। অপর প্রার্থী হলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জমির উদ্দিন।

চতুর্থ ধাপে এই পৌরসভা নির্বাচনের ভোট হবে ১৪ ফেব্রুয়ারি। ভোট হবে ইভিএমে। মোট ভোটার ২৪ হাজার ১১৪। ওয়ার্ড নয়টি। নির্বাচনে ১২ জন সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলরসহ কাউন্সিলর প্রার্থী ৪২ জন।

৪ ফেব্রুয়ারি সরেজমিনে দেখা গেছে, অলিগলিতে নৌকার পোস্টার। স্থানে স্থানে নির্বাচনী ক্যাম্প। বিপরীতে ধানের শীষের পোস্টার হাতে গোনা। ভোটাররা জানালেন, প্রতিদিন নৌকার কোনো না কোনো বড় নির্বাচনী সভা হচ্ছে। নেতা-কর্মীরা একাধিক দলে বিভক্ত হয়ে সকাল, দুপুর ও রাতে প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। বিপরীতে বিএনপির প্রার্থী ভোটে দাঁড়িয়েছেন কেবল এই তথ্যই ভোটাররা জানেন।

এ অবস্থায় গত রোববার নানা অভিযোগ উত্থাপন করে জেলা বিএনপি কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করে বিএনপি। সাংবাদিক সম্মেলন শেষে বাড়ি ফেরার আগেই রাতে ব্যাপারী পাড়ার নান্দিনা এলাকায় নৌকার নির্বাচনী ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এর দায় চাপানো হয় বিএনপির ওপর। ওই ঘটনায় গত সোমবার বকুল মিয়া নামের নৌকার এক সমর্থক মামলা করেন। মামলার এজাহারভুক্ত ১০ আসামির সবাই বিএনপির নেতা।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ জানুয়ারি ধানের শীষের প্রচারণায় বের হওয়া মাইক ও অটোরিকশা ভেঙে ফেলা হয়। এ সময় কয়েকজনকে মারধর করা হয়। ১ জানুয়ারি দুপুরে মধ্য চন্দ্রগ্রামে মেয়র প্রার্থী এহেসান কুফিয়া হামলার শিকার হন। নৌকার সমর্থক দ্বীন ইসলামের নেতৃত্বে ওই হামলা হয় বলে অভিযোগ। হামলায় বিএনপির দুই কর্মী গুরুতর জখম হন। একই দিন বিকেল এহেসান কুফিয়ার ভাতিজা মোয়াজ মিয়াকে নৌকার সমর্থকেরা ধরে নিয়ে ১০-১২ ঘণ্টা আটকে রাখেন।

বিএনপির নির্বাচন পরিচালনায় সংশ্লিষ্টতার কারণে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক বদরুদ্দিন উমরের ফায়ার সার্ভিস মোড়ের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে তালা ঝুলিয়ে দেন নৌকার লোকজন। তালা ঝোলানো হয়েছে পৌর বিএনপির সদস্য নিজামউদ্দিন মিজানের সিএনবি রোডের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান মেসার্স তাবা এন্টারপ্রাইজেও। উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব মো. মনিরুজ্জামান বলেন, এই পৌরসভায় নৌকার প্রার্থী সাংসদের ভাই আনোয়ার। দুই ভাইয়ের ক্ষমতার দাপটে বাজিতপুরে আর কারও রাজনীতি নেই। তার ওপর রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে ১২টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দিয়ে একটিরও প্রতিকার পাওয়া যায়নি।

বিএনপি প্রার্থীর অভিযোগের বিষয়ে এই নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ইউএনও দীপ্তিময়ী জামান বলেন, যেসব অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যাচ্ছে, সঙ্গে সঙ্গে প্রতিকারও করা হচ্ছে।

তবে নৌকার প্রার্থী আনোয়ার হোসেন বলেন, সামান্য কিছু হলেই ক্ষমতাসীন দলকে অপবাদ দেওয়া সহজ হয়ে পড়ে। বিএনপির প্রার্থী এহেসান কুফিয়া জনবিচ্ছিন্ন নেতা। সে কারণে মাঠে তাঁর কর্মী-সমর্থকদের দেখা যাচ্ছে না।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন