বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

গত ৭ জুন গোলাম কিবরিয়া ও তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মিজবাহ উদ্দিনের সমর্থকদের সংঘর্ষে মজিবুর রহমান (৬২) নামের এক ব্যক্তি নিহত হন। ইউনিয়নের বাহেরনগর গ্রামের বাসিন্দা মজিবুর মিজবাহ পক্ষের সমর্থক ছিলেন।

ওই ঘটনায় ৮ জুন মজিবুরের ছেলে জাহিনুর রহমান বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন। মামলায় মোট ৫৪ জনকে আসামি করা হয়। প্রধান আসামি করা হয় গোলাম কিবরিয়াকে। মামলা হওয়ার পর গোলাম কিবরিয়াকে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি।

গোলাম কিবরিয়া আওয়ামী লীগের কর্মী হিসেবে বর্তমানে সাংসদের অনুসারী হয়ে রাজনীতি করেন। হত্যা মামলার আসামি হওয়ার পর তিন মাসের বেশি সময় আত্মগোপনে ছিলেন তিনি।

স্থানীয় লোকজন জানান, ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া স্থানীয় সাংসদ আফজাল হোসেনের আপন মামাতো ভাই। একই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মিজবাহ উদ্দিন সাংসদের আপন ফুফাতো ভাই। গোলাম কিবরিয়া আওয়ামী লীগের কর্মী হিসেবে পরিচিত। তিনি বর্তমানে সাংসদের অনুসারী হয়ে রাজনীতি করেন। মিজবাহ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি এবং বর্তমান উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ সম্পাদক। একসময় অনুগত থাকলেও মিজবাহ বর্তমানে সাংসদের সুনজরে নেই। সর্বশেষ ইউপি নির্বাচনে মনোনয়ন চেয়েও দলীয় সমর্থন পাননি। তবে ‘বিদ্রোহী’ হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছিলেন। ওই ইউপি নির্বাচনের পর থেকে বর্তমান ও সাবেক ওই দুই জনপ্রতিনিধির মধ্যে দ্বন্দ্ব বেড়ে যায়।

আসন্ন ইউপি নির্বাচনে দুজন চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে আগ্রহী। সেই লক্ষ্যে দুজনই এলাকায় প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। মূলত নির্বাচন ঘিরে তাঁদের বিরোধ আরও মাত্রা পায়। চলতি বছরের ৬ জুন মিজবাহ পক্ষ স্থানীয় বাহেরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল। দোয়া অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরদিন ৭ জুন দুপুরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে বল্লমের আঘাতে মজিবুর রহমান (৬২) নিহত হন।

মিজবাহ উদ্দিন বলেন, ‘দিনের আলোতে গোলাম কিবরিয়াকে দেখা না গেলেও রাতের অন্ধকারে তাঁর অপকর্ম থেমে ছিল না। দূরে বসে এলাকায় উত্তেজনা টিকিয়ে রেখেছিলেন। দেরিতে হলেও কিবরিয়া আটক হওয়ায় এখন স্বস্তি।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন