বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

নগরবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিএনপির মনোনয়নে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আরিফুল হক চৌধুরী ২০১৮ সালের ১১ আগস্ট আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদরউদ্দিন আহমদ কামরানকে পরাজিত করে দ্বিতীয় দফায় মেয়র নির্বাচিত হন। এরপর আরিফুল রাস্তাঘাট প্রশস্তকরণ ও জলাবদ্ধতা নিরসনে অনেকটাই সফলতার পরিচয় রেখেছেন। নগরের ভেতর প্রবাহিত নয়টি ছড়ার (প্রাকৃতিক খাল) অধিকাংশ দখলমুক্ত করে দৃষ্টিনন্দন ‘ওয়াকওয়ে’ নির্মাণ করে প্রশংসিত হয়েছেন। তবে পানিসংকট, যানজটসহ দীর্ঘদিনের জিইয়ে থাকা অনেক সমস্যার সমাধান করতে পারেননি। অথচ নির্বাচনী ইশতেহারেও তিনি এসবের সমাধান দ্রুততম সময়ে করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

তবে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী দাবি করেছেন, দ্বিতীয় দফায় দায়িত্ব নেওয়ার পর এখন পর্যন্ত তিনি প্রায় ৭০ ভাগ সফল হয়েছেন। চলমান মেয়াদে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকার উন্নয়নকাজ হয়েছে। জিইয়ে থাকা সমস্যার অনেকটাই সমাধান করতে পেরেছেন। অবৈধ রিকশা ও নিষিদ্ধ ব্যাটারিচালিত রিকশা-ইজিবাইকের কারণে রাস্তা প্রশস্ত করা সত্ত্বেও যানজট কমছে না। পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ করা হলেও কিছু কিছু এলাকায় সংকট আছে। অন্য সমস্যাগুলো প্রকট না হলেও পুরোপুরি সমাধানের চেষ্টা চলছে। শহরকে বড় করার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সেটি পরিকল্পিতভাবে করা হবে। নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।

একাধিক বাসিন্দা বলেছেন, একসময়ের সবুজ-শ্যামল সিলেট নগর ধীরে ধীরে অট্টালিকা আর ব্যস্ত শহরে রূপ নিয়েছে। ঘনবসতি বেড়েছে। পাল্লা দিয়ে বেড়েছে নাগরিক দুর্ভোগও। সীমিত নাগরিক সুবিধা নিয়েই নগরবাসীকে সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে। পাড়া-মহল্লায় সরু রাস্তাঘাট ও ঘিঞ্জি এলাকার কারণে অনেক জায়গায় জরুরি প্রয়োজনে অ্যাম্বুলেন্স কিংবা ফায়ার সার্ভিসের যানবাহন ঢুকতে পারে না। বছরজুড়ে মশার উৎপাত থাকলেও মশকনিধনের ওষুধ ছিটাতে দেখা যায় না। অর্ধশতাধিক এলাকায় রয়েছে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট। এসব এলাকার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সোনারপাড়া, কামালগড়, ঘাসিটুলা, কাষ্টঘর ও বাগবাড়ি।

বাসা, বাড়ি, রাস্তাঘাট নির্মাণসহ সব উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে পরিকল্পনামাফিক অগ্রসর হতে হবে। এটা নিশ্চিত করা গেলে আপনা–আপনিই অধিকাংশ নাগরিক সমস্যা দূর হয়ে যাবে। ক্ষুদ্র উন্নয়ন পরিকল্পনাগুলোকে মহাপরিকল্পনার আওতায় আনা না গেলে সিলেটের পরিণতিও রাজধানী ঢাকার মতো হবে।
রাজন দাশ, বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউট সিলেট সেন্টারের সাধারণ সম্পাদক

সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম বলছেন, শীতের মৌসুম শুরু হওয়ার পর মশার উপদ্রব বেড়েছে। অন্যান্য কাজে ব্যস্ত থাকায় এত দিন ওষুধ ছিটানো সম্ভব হয়নি। তবে ৩ ডিসেম্বর থেকে তাঁরা মশকনিধনের ওষুধ ছিটানো শুরু করবেন।

অবৈধ রিকশা ও নিষিদ্ধ ব্যাটারিচালিত রিকশা-ইজিবাইকের কারণে যানজট কমছে না। পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ করা হলেও কিছু কিছু এলাকায় সংকট আছে।
আরিফুল হক চৌধুরী, মেয়র, সিলেট সিটি করপোরেশন

পানি শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী আলী আকবর জানান, পানিসংকট থাকলেও তীব্র নয়। সাড়ে তিন হাজার অবৈধ সংযোগকারীর কারণে ১৭ হাজার বৈধ গ্রাহকদের সংকট হচ্ছে। তবে অবৈধ সংযোগকারীর বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান হয়। নগরের ১০ লাখ বাসিন্দার দৈনিক পানির চাহিদা প্রায় ৮ কোটি লিটার। এর বিপরীতে সিটি কর্তৃপক্ষ ৪ থেকে ৫ কোটি লিটার পানি উৎপাদন করছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরের কালীঘাট, ঝালোপাড়া, কাজিরবাজার ও ঘাসিটুলা এলাকায় সুরমা নদীর পাড়ে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। মহাজনপট্টি এলাকার মূল সড়কে পরিত্যক্ত কাগজ, পলিথিন ও প্লাস্টিকের বোতল ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। নগরের চৌহাট্টা, আম্বরখানা, বন্দরবাজার, লামাবাজার, সুরমা মার্কেট, সোবহানীঘাট, শিবগঞ্জ ও কদমতলী এলাকায় দিনভর থেমে থেমে ছিল যানজট। আম্বরখানা, ইলেকট্রিক সাপ্লাই, শাহি ঈদগাহ, মীরাবাজার, শিবগঞ্জ ও সাদিপুর এলাকার সড়কজুড়ে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত। শুষ্ক মৌসুম হওয়ায় সারাক্ষণ এসব সড়কে ধুলা উড়ছে। এতে সড়কে চলাচলকারী মানুষ থেকে শুরু করে আশপাশের ব্যবসায়ীদের ভোগান্তিতে হচ্ছে।

সিটি করপোরেশনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা হানিফুর রহমান জানান, নগরে দিনে ৩০০ থেকে ৩৫০ মেট্রিক টন বর্জ্য উৎপাদিত হয়। প্রতিদিন ৬৫৩ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী ৮০ ভাগ বর্জ্য অপসারণ করতে পারেন। এ কাজে ব্যবহৃত হয় ১০০টি যান। তবে গৃহস্থালির বর্জ্য এলাকাভিত্তিক বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নিয়োজিত কর্মীরা সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট ভাগাড়ে ফেলেন। সেখান থেকে করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা বর্জ্য অপসারণ করেন।

সিটি করপোরেশনের হিসাবে, শহরের ২০ শতাংশ সড়কেই খানাখন্দ আছে। প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান বলেন, প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে ভাঙাচোরা সড়ক নির্মাণ ও সংস্কার চলছে। সব মিলিয়ে নগর উন্নয়নে চলতি অর্থবছরে ২৪৬ কোটি টাকার কাজ চলছে।

বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউট সিলেট সেন্টারের সাধারণ সম্পাদক রাজন দাশ প্রথম আলোকে বলেন, বাসা, বাড়ি, রাস্তাঘাট নির্মাণসহ সব উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে পরিকল্পনামাফিক অগ্রসর হতে হবে। এটা নিশ্চিত করা গেলে আপনা–আপনিই অধিকাংশ নাগরিক সমস্যা দূর হয়ে যাবে। ক্ষুদ্র উন্নয়ন পরিকল্পনাগুলোকে মহাপরিকল্পনার আওতায় আনা না গেলে সিলেটের পরিণতিও রাজধানী ঢাকার মতো হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন