বিজ্ঞাপন

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কলাপাড়া কার্যালয়ের শাখা কর্মকর্তা সৈয়দ তারিকুর রহমান জানান, ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাব ও পূর্ণিমার জোয়ারে বাঁধটির প্রায় ২০০ মিটার অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত অংশে আপাতত জিও ব্যাগ, জিও কাপড়, বাঁশ-কাঠ, মাটি-বালু ফেলে মেরামত করা হচ্ছে।

default-image

বাঁধের একটি স্থানে মাটি, বালু ফেলার কাজ করছিলেন নিজামপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর মুসল্লি, শামসুল হক, আবদুর রশিদ হাওলাদারসহ ৫০ জন। জাহাঙ্গীর মুসল্লিরা বলছিলেন, ‘গত (মঙ্গলবার) রাইতের জোয়ারের চাপে বানডা বেশি ঝুঁকির মুখে পড়ছে। আইজগো পানির চাপ আরও বেশি। হেইয়ার লাইগ্যা শ্যাষ চেষ্টাডা করছি।’

বাঁধ রক্ষায় কাজ করা বেশ কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঘূর্ণিঝড় সিডরের সময় বাঁধটি ভেঙে যায়। এরপর কয়েক দফায় মেরামত হয়। কিন্তু কোনোবারই টেকেনি। পাউবো সবশেষ ২০১৯ সালে একটি রিং বাঁধ করে দেয়। তখন নদীর দিকের অংশে বাঁধের ঢালে জিও টেক্সটাইল বিছিয়ে তার ওপর ২৫০ কেজি ওজনের বালুভর্তি ব্যাগ ফেলা হয়। আর ভেতরের দিকের ঢালে ফেলা হয় মাটি।

বাঁধটি সাগর মোহনায় হওয়ায় জোয়ারের চাপ বেশি। এ কারণে বাঁধটি বারবার ক্ষতির মুখে পড়ছে।
হালিম সালেহী, কলাপাড়া পাউবোর অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী

বাঁধটির উচ্চতা সমতল থেকে প্রায় ৯ ফুট উঁচু। প্রস্থ ৮ ফুট। জোয়ারের পানির চাপ বাড়লেও বাঁধের যাতে ক্ষতি না হয়, সে জন্য নদীর দিকে বাঁধের ঢাল বেশি সম্প্রসারণ করা হয়। এ কাজে তখন ব্যয় হয় ১ কোটি ৪১ লাখ টাকা।

কলাপাড়া পাউবোর অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী হালিম সালেহী প্রথম আলোকে বলেন, বাঁধটি সাগর মোহনায় হওয়ায় জোয়ারের চাপ বেশি। এ কারণে বাঁধটি বারবার ক্ষতির মুখে পড়ছে।

default-image

হালিম সালেহী বলেন, পাউবো ‘পোল্ডার পুনর্বাসন প্রকল্প’ নামের একটি নতুন প্রকল্প গ্রহণ করেছে। একটি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব পাউবোর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। অনুমোদন হলে পুরো বাঁধ স্থায়ীভাবে নির্মাণ করা যাবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন