default-image

দল বেঁধে ছেলে–বুড়ো নদ-নদীর তীরে বিভিন্ন দেশি মাছ কুড়াচ্ছেন। বেশির ভাগ মরা মাছ। গতকাল রোববার রাত থেকেই চলছে মাছ ধরা। একেকজন ৪ থেকে ৫ কেজি করে মাছ নিয়ে বাড়ি ফিরছেন।

আজ সোমবার বিকেলে গাজীপুরের শ্রীপুরের বানার নদ ও সুতিয়া নদীতে গিয়ে স্থানীয়দের নদীর পাড় থেকে মাছ কুড়ানোর এমন দৃশ্য দেখা যায়। পানির রং ঘন কালো। মাছ কুড়ানো কয়েকজনের সঙ্গে কথা হয়। তাঁরা জানিয়েছেন, সুতিয়া ও খীরু নদী হয়ে ময়মনসিংহের ভালুকা এলাকার শিল্পবর্জ্যমিশ্রিত পানি এসে বানার নদে মিশেছে। গতকাল রাত থেকেই প্রচণ্ড দুর্গন্ধযুক্ত পানি আসা শুরু করে। এর আগে দূষিত পানি এলেও এতটা তীব্র গন্ধ ছিল না।

পানিতে মরে ভেসে ওঠা মাছের মধ্যে আছে বাইম, কালবাউস, বোয়াল, চিরকা, গুলশা, আইর, বড় চিংড়ি, ছোট চিংড়ি, পুঁটি, বাইলা, কাতল, রুইসহ বিভিন্ন দেশি মাছ। বড় বড় মাছ অত্যন্ত দুর্বল হয়ে নদীর পাড়ে এসে ভেসে থাকতেও দেখা গেছে।

শ্রীপুরে বরমী এলাকার পাইটাল বাড়ি গ্রামের মাছ শিকারি কিরণ মিয়া বলেন, ভোররাত থেকেই শত শত মানুষ নদের পানিতে ভেসে ওঠা ও দুর্বল হয়ে চলতে থাকা মাছ ধরছেন। বানার নদে প্রচুর পরিমাণে বিষাক্ত পানি এসে মিশেছে। এর ফলে মাছ অক্সিজেন পায় না। মাছগুলো মারা যায়। চার থেকে পাঁচ বছর ধরে নদীর পানি খুব বেশি দূষিত হয়। মাছের পোনা মারা যায়।

বিজ্ঞাপন
default-image

শ্রীপুরের নান্দিয়া সাঙ্গন গ্রামের বাসিন্দা মো. মোবারক বলেন, ‘আমরা বেশ কয়েকজন মিলে সাত থেকে আট কেজি চিংড়ি, বাইন, বোয়াল, রিঠা মাছ ধরেছি। চার–পাঁচ বছর ধরেই নদীতে মাঝে মাঝে একসঙ্গে প্রচুর মাছ মরে ভেসে ওঠে। পানির রং একদম কালো হয়ে গেছে। দুর্গন্ধে আশপাশে যাওয়া যায় না।’ বরমী এলাকার বাসিন্দা আলামিন বলেন, দেশি মাছের বড় উৎস এই নদ-নদীগুলো। অথচ শিল্পকারখানার বর্জ্যের কারণে এগুলো মাছশূন্য হয়ে পড়েছে। গতকাল গভীর রাত থেকে নদ-নদীগুলোর মাছ দুর্বল হয়ে মরে যাচ্ছে।

নদী পরিব্রাজক দল শ্রীপুর শাখার সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম বলেন, নদীগুলোর সুরক্ষার জন্য বেশ কয়েকবার স্থানীয়দের নিয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু নদীদূষণ রোধে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

নদী পরিব্রাজক দল শ্রীপুর শাখার সভাপতি সাঈদ চৌধুরী বলেন, দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। নদ–নদীর দূষণ ঠেকাতে না পারলে মিঠাপানির মাছের উৎসগুলো বিলীন হয়ে যাবে। নদ–নদীর মাছগুলো এভাবে মারা যাওয়ায় খুব বড় ক্ষতি হয়ে গেল। দূষিত এই পানি বানার নদ হয়ে শীতলক্ষ্যায় মিশবে। দূষণের বিস্তার ঘটবে। তিনি এ ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।

পরিবেশ অধিদপ্তর গাজীপুরের উপপরিচালক আবদুস সালাম প্রথম আলোকে বলেন, বানার নদ ও সুতিয়া নদীর পাড়ে কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান নেই। ময়মনসিংহ এলাকা থেকে যেহেতু শিল্পবর্জ্য আসছে, তাই ওই অঞ্চলের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলা হবে। নদীদূষণ রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলা হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন