default-image

বান্দরবানের চিম্বুক পাহাড়ে পাঁচ তারকা হোটেল নির্মাণ নিয়ে স্থানীয় ম্রোদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি)। আজ বুধবার পিসিপির দেওয়া এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি করা হয়েছে।

গত রোববার বান্দরবান জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ক্য শৈ হ্লা বান্দরবানে ‘চিম্বুক পাহাড়ে পর্যটন হোটেল স্থাপনের বিষয়ে’ এক সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে তিনি বলেন, বিতর্কিত জমিটি (নাইতং পাহাড়) লামা উপজেলার ৩০২ নম্বর লুলেইন মৌজায় অন্তর্ভুক্ত। ওই জমিতে পরিষদের তত্ত্বাবধানে কৃষিপ্রযুক্তি ও উন্নত চাষাবাদপদ্ধতি প্রদর্শনীর মাধ্যমে সেখানকার স্থানীয় জনগণের কৃষিভিত্তিক জীবিকা নির্বাহের পথ সুগম করার লক্ষ্যে স্থানীয় ম্রো নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে পরিষদের নামে বন্দোবস্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হয়।

ক্য শৈ হ্লা বলেন, ‘লিজকৃত নাইতং পাহাড়ে বর্তমানে ম্রোদের জনবসতি নেই এবং আগেও ছিল না। ...প্রত্যক্ষভাবে ম্রোদের চারটি গ্রাম ও ৭০ থেকে ১১৬টি গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা পুরোপুরি সঠিক নয়।’

বিজ্ঞাপন

পিসিপির বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ ম্রো জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সরাসরি প্রতারণা করেছে। কেননা, কৃষিপ্রযুক্তি ও উন্নত চাষাবাদপদ্ধতি প্রদর্শনীর মাধ্যমে সেখানকার স্থানীয় জনগণের কৃষিভিত্তিক জীবিকা নির্বাহের পথ সুগম করার লক্ষ্যে স্থানীয় ম্রো জনগোষ্ঠীর সঙ্গে আলাপ-আলোচনাক্রমে বিতর্কিত জমিটি পরিষদের দখলে নেওয়া হয়েছে। আর এ জন্য পরিষদ ম্রোদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করেনি। লিজকৃত নাইতং পাহাড়সহ চিম্বুক ভ্যালি ম্রো জনগোষ্ঠীর প্রথাগত জুম ভূমি এবং মৌজা ভূমি। এসব ভূমি ম্রো জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকার একমাত্র অবলম্বন। তাই তার এই বক্তব্য সম্পূর্ণভাবে বাস্তববিবর্জিত ও সত্যের অপলাপ।’

পিসিপি বলেছে, পার্বত্য জেলার আইন অনুযায়ী জেলার কার্যক্রম পরিচালনা করার এখতিয়ার থাকলেও পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি মোতাবেক পার্বত্য অঞ্চলে সব উন্নয়ন কার্যক্রম ও পরিষদের কার্যাবলি সম্পাদনের ক্ষেত্রে আঞ্চলিক পরিষদের সঙ্গে আলোচনার বিধান থাকলেও তিনি তা করেননি, যা সম্পূর্ণ চুক্তিবিরোধী ও জুম স্বার্থপরিপন্থী কার্যক্রম।

এ বিষয়ে বান্দরবান জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ক্য শৈ হ্লার মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেন নি।

মন্তব্য করুন