বিজ্ঞাপন

মামলার এজাহারে বলা হয়, শহরের বনরূপাপাড়ার ফয়সাল আহম্মেদ ও তাঁর স্ত্রী সারাহ সুদীপা ইউনুছের বাসায় ৯ বছরের শিশু জয়নাব আক্তার ওরফে জোহরা গৃহকর্মীর কাজ করত। তাঁরা বিভিন্ন অজুহাতে জয়নাবকে আট মাস ধরে শারীরিক-মানসিক নির্যাতন করছিলেন। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে গত সোমবার দরজা খোলা পেয়ে জয়নাব বাসা থেকে পালিয়ে যায়। কিন্তু ওই দিন সন্ধ্যায় ফয়সাল ও সারাহ সুদীপা পালিয়ে যাওয়া জয়নাবকে ধরে নিয়ে আসেন। জয়নাবের ডান হাতে, বাহুতে দগদগে ঘা, পেটে জ্বলন্ত মশার কয়েলের ছ্যাঁকার কালো ক্ষত ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে।

রওশন আরা গত বছরের নভেম্বরে ফয়সাল ও সারাহ সুদীপার বাসায় লামা থেকে এনে জয়নাবকে গৃহকর্মী হিসেবে দেন। জয়নাবের জন্মের পর তার মা অন্য কোথাও চলে যান, কয়েক বছর আগে বাবাও তাকে রেখে গেছেন। অসহায় বৃদ্ধ দাদির কাছে জয়নাব থাকে। তার যাওয়ার আর কোথাও জায়গা নেই।

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও চিত্রে জয়নাবের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষতচিহ্ন দেখিয়ে তার ওপর নির্যাতনের কথা জানায় শিশুটি। সে বলেছে, আট মাস ধরে বাসা থেকে বের হতে পারেনি। সোমবার সকালে বাসার দরজা খোলা পেয়ে পালিয়েছে।

মামলার আসামি ফয়সাল আহম্মেদ ও তাঁর স্ত্রী সারাহ সুদীপা ইউনুছ দুজনই আইনজীবী এবং সারাহ সুদীপা ইউনুছ মানবাধিকারকর্মী হিসেবেও পরিচয় দিয়ে থাকেন।

তবে সারাহ সুদীপা ইউনুছ বলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আনা শিশু গৃহকর্মী নির্যাতনের অভিযোগ বানোয়াট ও ষড়যন্ত্রমূলক। তিনি একজন মানবাধিকারকর্মী হিসেবে নির্যাতন করার প্রশ্নই ওঠে না। পালিয়ে যাওয়া জয়নাবকে সোমবার সন্ধ্যায় একজন পৌর কাউন্সিলরের উপস্থিতিতে সুস্থ অবস্থায় রওশন আরার কাছে হস্তান্তর করা হয়। এক দিন পর মঙ্গলবার জয়নাবকে নির্যাতনের অভিযোগ গ্রহণযোগ্য নয়। রওশন আরা একসময় তাঁদের বাসায় কাজ করার সময় টাকা চুরি করেছিলেন। সেই ক্ষোভে তাঁদের ফাঁসানোর জন্য জয়নাবের নির্যাতনের ঘটনা সাজিয়ে সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছেন।

জেলা শহরের হাফেজঘোনার বাসিন্দা রওশন আরা বলেছেন, জয়নাব পালিয়ে যাওয়ার পর থেকে ফয়সাল ও সারাহ সুদীপা টাকা চুরির মিথ্যা কথা বলে জয়নাবকেসহ তাঁকে মামলায় ফাঁসানো হুমকি দিচ্ছেন। অথচ জয়নাব পালানোর বিষয়টি তিনি জানতেন না। তাঁর কাছে হস্তান্তরের পর পালানো ও নির্যাতনের ব্যাপারে জেনেছেন।

বান্দরবান সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-দায়িত্বপ্রাপ্ত) সোহাগ রানা বলেন, সারাহ সুদীপা ও ফয়সালের বিরুদ্ধে ২০১৩ সালের শিশু আইনে শিশুদের প্রতি নিষ্ঠুরতার অপরাধে মামলা হয়েছে। তাঁরা এখন পলাতক। শিশু জয়নাবকে পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাকে আদালতের মাধ্যমে সরকারি শিশু সদনে পাঠানো হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন