default-image

নাজমুল হকের বাবার নাম শহীদুল ইসলাম। বয়স প্রায় ৪৬ বছর। গতকাল শুক্রবার রাজশাহীতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৭ জনের একজন তিনি। তিনি অন্য তিনটি পরিবারের সঙ্গে একাই এসেছিলেন। গতকাল তাঁকে শনাক্ত করা যায়নি। রাতে ছেলে নাজমুল হক রংপুর থেকে রাজশাহীতে এসেছেন। সারা রাত বাবার লাশের জন্য বসে ছিলেন।

আজ শনিবার সকালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে নাজমুল হকের সঙ্গে কথা হয়। তাঁর মুঠোফোনে পাওয়া গেল বাবা শহীদুল ইসলামে ছবি। এই ছবি দেখাতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন নাজমুল।

এক বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে নাজমুল সবার বড়। তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। তাঁদের বাড়ি রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার দুরামিঠিপুর গ্রামে। বাবা শহীদুল ইসলাম কৃষিকাজ আর মৌসুমি ব্যবসা করতেন।

বিজ্ঞাপন

নাজমুল বলেন, প্রতিবছর এই দলের সঙ্গে তাঁর বাবা বেড়াতে যান। এবার রাজশাহীতে এসেছিলেন। বেলা তিনটার দিকে তিনি দুর্ঘটনার খবর পান। একটি প্রাইভেটকার ভাড়া করে রাত ১০টার দিকে তিনি রাজশাহীতে পৌঁছান। সেই থেকে বাবার লাশের অপেক্ষায় বসে আছেন তিনি। মৃত ব্যক্তিদের ডিএনএর নমুনা সংগ্রহ ও পুলিশের আনুষ্ঠানিকতার জন্য লাশ পেতে দেরি হচ্ছে বলে তিনি জানান। নাজমুলের মুঠোফোনে পাওয়া যায় তাঁর ছোট ভাইবোনের সঙ্গে বাবা শহীদুল ইসলামের ছবি। এই ছবি দেখে কান্না আর থামাতে পারেননি তিনি।

গতকাল দুপুরে রাজশাহীর কাটাখালী থানার সামনে মাইক্রোবাস ও যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষে মাইক্রোবাসে আগুন ধরে যায়। এই আগুনে পুড়ে মাইক্রোবাসের ১৭ আরোহী মারা যান। নাজমুলের মতো আরও তিনটি পরিবারের সদস্যরা রাত থেকে লাশের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অপেক্ষায় আছেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন