বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

গত বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় শহরের নাগড়া এলাকার একটি ভবনের চারতলা বাসা থেকে পুলিশ আবদুল কাইয়ুম সরদার ও তাঁর দুই বছরের ছেলে আহনাব শাকিলের লাশ উদ্ধার করে। আবদুল কাইয়ুম সরদারের বাড়ি কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার গোপালের খামার গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের আক্কাস সরদারের ছেলে। তিনি নেত্রকোনায় ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের অফিস সহায়ক হিসেবে চাকরি করতেন। শহরের নাগড়া এলাকার একটি বাসায় স্ত্রী-সন্তানসহ বসবাস করতেন।

এদিকে মৃত্যুর ঘটনায় আবদুল কাইয়ুমের ছোট ভাই মোস্তাফিজুর রহমান ওরফে নিলু মিয়া (২৫) বাদী হয়ে শুক্রবার দুপুরে নেত্রকোনা মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে আবদুল কাইয়ুমের স্ত্রী ছালমা খাতুনকে (২১) গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।

নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ বলেন, মৃত্যুর আগে কাইয়ুম তাঁর অফিসের সহকারী পরিচালক মো. আবদুর রশিদের কাছে দিবাগত রাত ৩টা ৫৭ মিনিটে একটি মেইল পাঠান। মেইলে তিনি ঋণের কথা উল্লেখ করেছেন। নিজের শারীরিক অক্ষমতার কথা বলেছেন। মেইলের এক স্থানে তিনি উল্লেখ করেছেন, শহরের একটি সোনার দোকানে গয়নার জন্য ৩০ হাজার টাকা বায়না দেওয়া আছে, সেই টাকা এনে একটি দোকানে শিশুর খাবার নেওয়ায় বাকি পড়া ৬ হাজার ৬০০ টাকা পরিশোধ করতে বলেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আবদুল কাইয়ুম সরদার ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার ফকিরগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা আসাদ আলীর মেয়ে ছালমা খাতুনকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকে কাইয়ুম স্ত্রীকে নিয়ে তাঁর কর্মস্থল নেত্রকোনায় বসবাস করছিলেন। একই বছরের ডিসেম্বরে তাঁদের ছেলের জন্ম হয়। এক বছর ধরে নাগড়া এলাকায় রহুল আমিন নামের এক ব্যক্তির পাঁচতলা বাসার চারতলার ডি-৩ ইউনিট ভাড়া নিয়ে থাকছিলেন কাইয়ুম সরদার। গত বৃহস্পতিবার সকালে কাইয়ুম ও তাঁর দুই বছরের শিশুর মৃত্যুর খবর শুনে পুলিশ লাশ দুটি উদ্ধার করে।

নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে লাশ দুটির ময়নাতদন্তের পর চিকিৎসক শ্রদ্ধানন্দ নাথ প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দুই বছরের শিশুটিকে শ্বাস রোধ করে হত্যা করা হয়েছে। তবে শিশুটির বাবার মৃত্যুর বিষয়টি স্পষ্ট না হওয়ায় দুজনেরই ভিসেরা সংগ্রহ করা হয়েছে। একই সঙ্গে উভয়ের ডিএনএ নমুনাও সংগ্রহ করা হয়েছে।’

আবদুল কাইয়ুমের স্ত্রী ছালমা খাতুন জানিয়েছিলেন, প্রতিদিনের মতো গত বুধবার রাতে খাবার খেয়ে একটার দিকে তাঁরা এক বিছানায় ঘুমিয়ে পড়েন। বৃহস্পতিবার ভোর পাঁচটায় জেগে উঠে পাশের কক্ষে একটি ফ্যানের সঙ্গে স্বামী ও সন্তানের ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান তিনি। পরে তিনি রশি কেটে লাশ দুটি নামান। এরপর বাসার দরজা খুলে বিষয়টি প্রতিবেশীদের জানান। পরে স্থানীয় লোকজন পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে লাশ দুটি উদ্ধার করে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন