default-image

পিরোজপুরের ইন্দুরকানি উপজেলার দক্ষিণ ভবানীপুর গ্রামে বাবুই পাখির বাসা ভাঙা ও ছানা মেরে ফেলার দায়ে তিন কৃষককে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। আজ সোমবার দুপুরে পিরোজপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অশোক বিক্রম চাকমা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।

ইন্দুরকানি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হোসাইন মুহাম্মদ আল-মুজাহিদ প্রথম আলোকে বলেন, বাবুই পাখির বাসা উচ্ছেদ ও ছানা হত্যার অপরাধে বন্য প্রাণী সংরক্ষণ আইনে দক্ষিণ ভবানীপুর গ্রামের কৃষক লুৎফর রহমানকে (৪০) ১৫ দিন, সুনীল ব্যাপারীকে (৪২) ৭ দিন ও সুনীল মিস্ত্রিকে (৫৫) ৩ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

ভ্রাম্যমাণ আদালত-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ ভবানীপুর গ্রামে হেমায়েত হোসেন মোল্লা, তাঁর ভাই লুৎফর রহমান মোল্লাসহ কয়েকজন কৃষক ৫০ বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছেন। কয়েক দিন ধরে একঝাঁক বাবুই পাখি জমির ধান খেয়ে নষ্ট করছিল। এসব জমির পাশেই দুটি তাল গাছে বাবুই পাখির বেশ কিছু বাসা। বাবুই ধান খাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে গত শনিবার সন্ধ্যায় লুৎফর রহমান মোল্লার নেতৃত্বে কয়েকজন কৃষক তালগাছের বাবুই পাখির বাসাগুলো ভেঙে ফেলেন। এ সময় বেশির ভাগ বাসায় ছিল বাবুই পাখির ছোট ছানা ও ডিম। বাঁশ দিয়ে বাসা ভেঙে মাটিতে ফেলে দেওয়ার পর কিছু বাসা পাশের খালে ফেলে দেওয়া হয়। এতে বাসায় থাকা বেশির ভাগ ছানা মারা যায়।

বিজ্ঞাপন

পরদিন সকালে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কয়েকটি পাখির ছানা জীবিত পান। এরপর পাখির ছানাসহ বাসা তালগাছে প্রতিস্থাপন করে পুলিশ। আজ সোমবার দুপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালত ঘটনাস্থলে গিয়ে এ ঘটনায় জড়িত তিনজনকে কারাদণ্ড দেন।

লুৎফর রহমান মোল্লার বড় ভাই হেমায়েত হোসেন মোল্লা বলেন, ৫০ বিঘা জমিতে তাঁরা তিন ভাই বোরো ধান চাষ করেছেন। বাবুই পাখি ২৫ ভাগের বেশি জমির ধান ইতিমধ্যে নষ্ট করে ফেলেছে। তাই তাঁর ছোট ভাই লুৎফর মোল্লা ও দুজন শ্রমিক কিছু পাখির বাসা ভেঙেছেন। তাঁরা কোনো পাখি মারেননি।

ইন্দুরকানি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হুমায়ূন কবির বলেন, কারাদণ্ড পাওয়া ব্যক্তিদের কারাগারে পাঠানো হচ্ছে।

এদিকে গত শুক্রবার ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার ঈশ্বরকাঠি গ্রামে বাবুই পাখির বাসায় আগুন ধরিয়ে দিয়ে পাখির ছানা পুড়িয়ে মারার ঘটনা ঘটেছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন