default-image

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে আবারও কৃষকের খেতের ফসল কেটে দেওয়া হয়েছে। বুধবার রাতে উপজেলার নিয়ামতপুর গ্রামের মাঠে কৃষক আলমগীর হোসেন মণ্ডলের ২৫ শতক জমির ৩ শতাধিক ধরন্ত লাউগাছ কেটে দেওয়া হয়েছে।

এ নিয়ে গত পাঁচ দিনে এক উপজেলায় পাঁচ কৃষকের জমির বিভিন্ন ফসল কেটে ফেলার ঘটনা ঘটল। তবে পুলিশ একটি ঘটনায়ও জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে পারেনি। খেতের ফসলের সঙ্গে কারা এমন শত্রুতা করতে পারে, তা বুঝতে পারছেন না কৃষকেরাও। পুলিশ বলছে, তাঁদের পক্ষে মাঠ পাহারা দেওয়া সম্ভব নয়। তবে এ ঘটনার প্রতিকার পেতে জনগণকে সচেতন করতে হবে। পাশাপাশি কৃষক নিজেরা পাহারার ব্যবস্থা করতে পারেন।

সরেজমিনে বৃহস্পতিবার নিয়ামতপুর গ্রামে দেখা যায়, মাঠের মধ্যে ২৫ শতক জমিতে থাকা লাউগাছগুলোর পাতা শুকিয়ে আসছে। সবুজ গাছগুলো মারা যাচ্ছে। কৃষক আলমগীর হোসেন জানান, তিনি সবজির পাশাপাশি নানা ধরনের ফসল চাষ করে থাকেন। মাঠে তাঁর ৩০ বিঘার বেশি জমি রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ২৫ শতক জমিতে হাইব্রিড জাতের লাউ চাষ করেছিলেন। গাছ লাগানোর পর টাল দিয়ে দেন। গাছগুলো টালে উঠে লাউ ধরতে শুরু করেছে। ইতিমধ্যে কয়েক দফা লাউ বাজারে নিয়ে বিক্রিও করেছেন।

আলমগীর হোসেন বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে তিনি খেতে লাউ কাটতে যান। কয়েকটি লাউ কাটার পর দেখতে পান গাছগুলোর পাতা নরম হয়ে গেছে। তখন গাছের গোড়ায় দেখেন সব গাছ কেটে দেওয়া হয়েছে। বুধবার রাতে দুর্বৃত্তরা এ কাজ করেছে। তিনি বলেন, গ্রামে কারও সঙ্গে তাঁর তেমন কোনো শত্রুতা নেই। এরপরও কেন এভাবে ফসল কেটে দেওয়া হলো বুঝে উঠতে পারছেন না। তবে তাঁর একজনকে সন্দেহ হয়, যার নাম পুলিশকে জানিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি লিখিত অভিযোগ দেবেন বলে জানান।

বিজ্ঞাপন

আলমগীর হোসেন বলেন, বুধবারও ৭০টি লাউ বাজারে নিয়ে বিক্রি করেন। বর্তমানে সবজির দাম ভালো হওয়ায় আশা ছিল এই লাউ বিক্রি করে লাভবান হবেন। এই জমি চাষ করতে তাঁর এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। গাছ কেটে না দিলে তিনি লক্ষাধিক লাখ টাকার লাউ বিক্রি করতে পারতেন। কিন্তু এক রাতে সব শেষ হয়ে গেছে।

এর আগে ১০ অক্টোবর উপজেলার দুধরাজপুর গ্রামের লিংকন বিশ্বাসের লাউখেত কেটে দেয় দুর্বৃত্তরা। একই দিনে গয়েশপুর গ্রামের বিশারত আলী মণ্ডলের ফুলকপির বীজতলার চারা কেটে দেওয়া হয়। ১১ অক্টোবর বড়-সিমলা গ্রামের নুর ইসলামের ২৩ শতক জমির লাউগাছ কেটে দেয় দুর্বৃত্তরা। ১৩ অক্টোবর গয়েশপুর গ্রামের বাপ্পি মণ্ডলের ২৬ শতক জমির পুঁইশাকের গাছ কেটে দেওয়া হয়। সর্বশেষ ১৪ অক্টোবর রাতে কেটে দেওয়া হলো আলমগীর হোসেনের লাউগাছ। একের পর এক মাঠের ফসল কেটে ক্ষতি করায় উৎকণ্ঠা আর আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন এই উপজেলার কৃষকেরা।

একের পর এক এমন ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহা. মাহফুজুর রহমান মিয়া জানান, পুলিশের একার পক্ষে কৃষকের মাঠ পাহারা দেওয়া সম্ভব নয়। যে কারণে সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে কাজ করা প্রয়োজন। পাশাপাশি কৃষক নিজেরা মাঠে পাহারা বসাতে পারেন। তবে যেসব কৃষক ফসল কাটা নিয়ে অভিযোগ দিয়েছেন, সেগুলো তদন্ত করছেন। চেষ্টা করছেন এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের খুঁজে বের করার।

মন্তব্য পড়ুন 0