বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

জবেদার বাবা আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘হাসপাতালে রোগীর অনেক চাপ। আমার মেয়ের জন্য কোনো সিট (শয্যা) পাইনি। তাই গাইনি ওয়ার্ডের মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। এভাবে চিকিৎসা নেওয়া কত কষ্টের, তা কেউ বুঝবে না।’

শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল সূত্র জানায়, ১০০ শয্যার শরীয়তপুর সদর হাসপাতালটি জেলা শহরে অবস্থিত। ভবনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় পুরুষ বিভাগের মেডিসিন, সার্জারি, অর্থোপেডিক, মহিলা বিভাগের গাইনি, অর্থোপেডিক, মেডিসিন, সার্জারিসহ ৯টি ওয়ার্ডে রোগীদের ৮০টি শয্যায় চিকিৎসা দেওয়া হয়। আর হাসপাতালের তৃতীয় তলায় ২০ শয্যায় করোনার উপসর্গ থাকা রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হয়।

গত এক সপ্তাহে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে রোগীর চাপ বেড়েছে। গতকাল শুক্রবার সকালে হাসপাতালটিতে ৮০ শয্যার বিপরীতে ১৯৭ জন রোগী ভর্তি ছিল।

হাসপাতালে ২৪ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মধ্যে ৯ জন কর্মরত আছেন। আর ২৬ জন চিকিৎসকের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন ১০ জন। হাসপাতালটিতে ৫০ জন চিকিৎসকের পদ থাকলেও কর্মরত আছেন ১৯ জন। এর মধ্যে ৯ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অন্তর্বিভাগে ভর্তি রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছেন।

বারান্দায় গরম। ফ্যান নেই। অনেক কষ্ট হচ্ছে। ছেলে বারবার ঘেমে যাচ্ছে। কী আর করব?
মুক্তা আক্তার, শিশু রোগীর মা

ভেদরগঞ্জের চরভাগা এলাকার মুক্তা আক্তারের ২৫ দিন বয়সী ছেলেশিশু নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত। গত বৃহস্পতিবার সকালে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শয্যা না পেয়ে তাঁরা আশ্রয় নিয়েছেন মহিলা ও শিশু ওয়ার্ডের বারান্দায়।

মুক্তা আক্তার বলেন, ‘ওয়ার্ডে সিট না পেয়ে বারান্দায় আছি। বারান্দায় গরম। ফ্যান নেই। অনেক কষ্ট হচ্ছে। ছেলে বারবার ঘেমে যাচ্ছে। কী আর করব? বাধ্য হয়েই এখানে আছি।’

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মুনীর আহমেদ খান বলেন, গত এক সপ্তাহে হাসপাতালে রোগীর চাপ বেড়েছে। জ্বর, ঠান্ডা ও ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী বেশি। আবহাওয়া পরিবর্তন হওয়ার কারণে শিশু ও বয়স্করা অসুস্থ হচ্ছেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন