default-image

জিনে শিশু মারুফ হাসানকে (৭) মেরে ফেলেছে বলে প্রচার করে লাশ দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। তার আগেই পুলিশ এসে কাফনের কাপড়ে মোড়ানো লাশটি উদ্ধার করে। সন্দেহজনক হওয়ায় পুলিশ শিশুর বাবা, সৎমা ও দুই চাচাকে থানায় নিয়ে আসে। জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পেরেছে, বালিশ চাপা দিয়ে মারুফকে হত্যা করে ‘জিনের ওপর’ দায় চাপানোর চেষ্টা করা হয়েছিল।

রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার শুভডাঙ্গা ইউনিয়নের বিনোদপুর গ্রামের এ ঘটনা ঘটেছে। শিশুটির বাবা শাহাজাহান আলী (৪৫) ও সৎমা মুক্তা বেগমকে (২৫) গ্রেপ্তার দেখিয়ে আজ শনিবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। এর আগে গতকাল শুক্রবার রাতে শিশুর মা মারুফা বেগম বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বাগমারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সৈবুর রহমান বলেন, পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সৎমা মুক্তা বেগম হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে নিজের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। স্বামীর সহযোগিতায় গতকাল ভোররাতে বালিশ চাপা দিয়ে শিশু মারুফ হাসানকে তিনি হত্যা করেন বলে জানিয়েছেন। শিশু মারুফ দুষ্টুমি করে—এটা তিনি মানতে পারছিলেন না। এসব ক্ষোভ থেকে শিশুকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

এসআই সৈবুর রহমান বলেন, খুনের পর লাশ রেখে বাবা অন্যের পানবরজে কাজ করার জন্য যান। শিশুটি মাঝেমধ্যে অস্বাভাবিক আচরণ করার সুযোগ নিয়ে তাকে জিনে মেরে ফেলেছে বলে প্রচারণা চালিয়ে নিজেদের রক্ষার চেষ্টা করেন। পুলিশ ১৬১ ধারায় তাঁর জবানবন্দি তালিকাভুক্ত করেছে।

গতকাল দুপুরে বাগমারা থানার পুলিশ উপজেলার শুভডাঙ্গা ইউনিয়নের বিনোদপুর গ্রাম থেকে কাফনের কাপড়ে মোড়ানো শিশু মারুফ হাসানের লাশ উদ্ধার করে। শিশু মারুফ হাসানকে জিনে মেরে ফেলেছে বলে প্রচার করা হয়। দ্রুত লাশ দাফনের ব্যবস্থা করেন বাবা ও সৎমা। লোকজনও জানাজায় আসেন। খবর পেয়ে শিশুর মা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে বিপত্তি বাধে। তিনি ছেলে মারুফ হাসানকে হত্যার অভিযোগ তোলেন। পরে পুলিশও ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তারা লাশের সঙ্গে শিশুর বাবা, সৎমা ও দুই চাচাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যায়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রাতে দুই চাচাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে শিশুর মা মারুফা বেগম বাদী হয়ে সাবেক স্বামী ও সতিনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন।

বাগমারা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আফজাল হোসেন বলেন, মুক্তা বেগম খুব চতুর। তিনি সতিনের ছেলেকে মেনে নিতে পারছিলেন না। শিশুকে হত্যার পর জিনে মেরে ফেলার নাটক সাজিয়ে নিজেদের রক্ষার চেষ্টা করেন। ঘটনার পর বাবা ও সৎমা অস্বাভাবিক হয়ে পড়েন। এতে পুলিশের সন্দেহ হয়। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই পুলিশ মোটিভ উদ্ধার ও আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন